ঢাকা, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩
মাদক-জুয়ামুক্ত দেশ গড়তে নেওয়া হচ্ছে কঠোর পদক্ষেপ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক: বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী দেশকে জুয়া ও মাদকমুক্ত করতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
শুক্রবার (২৬ জুন) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ বা জনমিতিক লভ্যাংশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিক্রম করছে, যেখানে কর্মক্ষম যুব জনগোষ্ঠীর সংখ্যা সর্বোচ্চ। এই সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎকে সুরক্ষিত রাখতে সরকার মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে এবং তা কঠোরভাবে বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, দেশের সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে তরুণ সমাজকে অবশ্যই মাদকমুক্ত রাখতে হবে। নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম অঙ্গীকার ছিল যুবসমাজকে মাদক ও জুয়ার করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করা। সে লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে।
মন্ত্রী জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সশস্ত্র মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করলেও তাদের হাতে কোনো অস্ত্র নেই। এই আইনগত সীমাবদ্ধতা দূর করতে আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদে ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনী বিল’ উত্থাপন করা হবে। এর মাধ্যমে অধিদপ্তরকে একটি স্বতন্ত্র ও স্বাধীন সংস্থা হিসেবে আরও শক্তিশালী করা হবে। পাশাপাশি কর্মকর্তাদের যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ৯ এমএম পিস্তলসহ আধুনিক অস্ত্র দেওয়া হবে, যাতে তারা সশস্ত্র মাদক কারবারি ও চোরাকারবারিদের কার্যকরভাবে মোকাবিলা করতে পারেন।
আদালতে বিচারাধীন মাদক মামলার জটের প্রসঙ্গ তুলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শুধু ঢাকাতেই প্রায় ৮০ হাজার মাদকের মামলা বিচারাধীন রয়েছে। বিচারক সংকটের কারণে এসব মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি সম্ভব হচ্ছে না। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশোধিত আইনে প্রয়োজন অনুযায়ী ‘বিশেষ ট্রাইব্যুনাল’ গঠনের বিধান রাখা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, মাদক শনাক্তকরণে আধুনিক ‘ডগ স্কোয়াড’ সংযোজন, আসামিদের রাখার জন্য ‘হাজতখানা’ স্থাপন এবং মাদকের রাসায়নিক পরীক্ষা জালিয়াতি রোধে দেশের প্রতিটি জেলায় উন্নত কেমিক্যাল ল্যাবরেটরি স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
ডিজিটাল অপরাধের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে মাদক ও জুয়ার অপরাধ সাইবার স্পেস এবং বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিস্তৃত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, এনক্রিপ্টেড যোগাযোগব্যবস্থা ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ব্যবহার করে অপরাধীরা মাদক পাচার, অর্থ পাচার ও অনলাইন জুয়ার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব অপরাধ কঠোরভাবে নজরদারির জন্য এনটিএমসির পরামর্শে আইনি কাঠামোয় পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকার শুধু খুচরা বিক্রেতা বা বাহকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না; বরং মাদক ব্যবসার মূল হোতা, অর্থ জোগানদাতা ও গডফাদারদেরও আইনের আওতায় আনতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। নতুন সংশোধনীতে মাদকের অর্থে অর্জিত অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার কঠোর বিধান রাখা হয়েছে। ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮’ এবং ‘মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২’-এর আওতায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এ ধরনের ৯টি মানি লন্ডারিং মামলা দায়ের করেছে এবং আরও ২৩টি গুরুতর অনুসন্ধান চলমান রয়েছে।
বিজিবি, কোস্টগার্ড, র্যাব ও পুলিশের সমন্বিত ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ঢাকার উত্তরায় সিনথেটিক ড্রাগ ‘কিটামিন’-এর ল্যাবরেটরি আবিষ্কার হওয়া প্রমাণ করে অপরাধীরা কতটা আধুনিক হয়ে উঠেছে। তাই প্রচলিত মাদকের পাশাপাশি নতুন সিনথেটিক ও সেমি-সিনথেটিক মাদকের বিস্তার মোকাবিলায় আইনও যুগোপযোগী করতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, মাদকাসক্তি একটি গুরুতর মানসিক ও শারীরিক ব্যাধি। যারা এর শিকার হয়েছেন, তারা অপরাধী নন; তারা রোগী। তাদের সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে বিভাগীয় পর্যায়ে ২০০ শয্যার সরকারি নিরাময় কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। একই সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি নিরাময় কেন্দ্রের মাধ্যমে চিকিৎসা ও মনোসামাজিক কাউন্সেলিং আরও জোরদার করা হয়েছে।
তিনি জানান, বেসরকারি পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোর মানোন্নয়নে সরকার আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধি করেছে এবং অ্যাডিকশন প্রফেশনালদের দক্ষতা উন্নয়নে উচ্চতর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মাদকের মতো বৈশ্বিক সমস্যা কোনো একক দেশ বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে নির্মূল করা সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন সমন্বিত সামাজিক আন্দোলন। তিনি যুবসমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষায় সমাজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অভিভাবক, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, সুশীল সমাজ এবং স্বেচ্ছাসেবী ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।
এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন প্রাঙ্গণে স্থাপিত মাদকবিরোধী বিশেষ স্টল পরিদর্শন করেন।
অনুষ্ঠানে মাদকবিরোধী জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের থিম সং প্রদর্শন করা হয়। মাদকাসক্তি থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা একজন ব্যক্তি নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। এছাড়া মন্ত্রী বার্ষিক মাদক প্রতিবেদন ও বিশেষ স্মারকের মোড়ক উন্মোচন করেন এবং মাদকবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার ও সনদ তুলে দেন।
উল্লেখ্য, ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস’-এর এবারের প্রতিপাদ্য হলো-‘বিশ্ব মাদক সমস্যা: বিদ্যমান ইস্যু, নতুন চ্যালেঞ্জ, উদ্ভাবনী প্রতিক্রিয়া’।
ইমামুল
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- আর্জেন্টিনা বনাম অস্ট্রিয়ার ম্যাচ LIVE দেখুন এখানে
- পর্তুগাল বনাম উজবেকিস্তান ম্যাচ LIVE দেখুন এখানে
- ব্রাজিল-স্কটল্যান্ড ম্যাচ কখন, কোথায় দেখবেন? জেনে নিন সব তথ্য
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষককে বরখাস্ত, দুজনকে অব্যাহতি
- আর্জেন্টিনা বনাম অস্ট্রিয়া ম্যাচ: কোথায় দেখবেন লাইভ, জেনে নিন
- স্পেন বনাম সৌদি আরব: জেনে নিন লাইভ দেখার সহজ উপায়
- আজ রাতের জন্য কিছু জরুরি সেফটি টিপস
- আর্জেন্টিনা বনাম অস্ট্রিয়া ম্যাচ শেষ, দেখুন ফলাফল
- প্রীতি জিনতার আপত্তিকর ভিডিও ফাঁস!
- ফ্রান্স বনাম ইরাক ম্যাচ, কখন কোথায় দেখবেন লাইভ
- আজকের খেলার সময়সূচি (২১ জুন)
- চলছ ব্রাজিল বনাম হাইতির ম্যাচ: সরাসরি দেখুন (LIVE)
- স্থগিত হতে পারে ব্রাজিল ও স্কটল্যান্ডের ম্যাচটি
- ফের ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলো রাজধানী
- ব্রাজিল বনাম স্কটল্যান্ড -সরাসরি দেখুন এখানে (LIVE)