ঢাকা, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সৌদির সাথে মিল রেখে ১২ জেলায় ইদ উদযাপন

২০২৬ মে ২৭ ১৬:৪৬:৫২

নিজস্ব প্রতিবেদক: সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে দেশের অন্তত ১২ জেলার বিভিন্ন গ্রামে বুধবার (২৭ মে) পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করেছেন হাজারো মুসল্লি। চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, ফরিদপুর, ঝিনাইদহ, বরগুনা, সাতক্ষীরা, রাজশাহী, ঝালকাঠি, পটুয়াখালী, ভোলা, নোয়াখালী ও কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় একদিন আগেই ঈদের নামাজ আদায় ও পশু কোরবানি করা হয়।

বিভিন্ন দরবার শরীফ, কাদেরিয়া তরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের চাঁদ দেখার অনুসারীরা জানান, তারা বহু বছর ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও দুই ঈদ পালন করে আসছেন। কোথাও কোথাও বৈরী আবহাওয়া ও বৃষ্টির মধ্যেও ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ, ফরিদগঞ্জ, মতলব ও কচুয়া উপজেলার অর্ধশতাধিক গ্রামে ঈদ উদযাপন করা হয়। হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা দরবার শরীফে সকাল ৮টায় প্রথম ও সাড়ে ৮টায় দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম জামাতে ইমামতি করেন পীর মাওলানা আরিফ চৌধুরী এবং দ্বিতীয় জামাতে ইমামতি করেন পীর জাকারিয়া চৌধুরী আল মাদানি।

সাদ্রা দরবারের পীর মাওলানা আরিফ চৌধুরী বলেন, সারাবিশ্বে যখন ঈদ উদযাপিত হচ্ছে, তখন তারাও সেই অনুযায়ী ঈদ পালন করছেন। সরকারি ঘোষণার কারণে অনেকেই একসঙ্গে ঈদ করতে না পারলেও ধীরে ধীরে মানুষ আন্তর্জাতিকভাবে মিল রেখে ঈদ উদযাপনের দিকে আগ্রহী হচ্ছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। জানা যায়, ১৯২৮ সাল থেকে সাদ্রা দরবার শরীফে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও ঈদ উদযাপনের প্রচলন রয়েছে।

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ, রায়পুর ও সদর উপজেলার ১১টি গ্রামের মানুষ বুধবার ঈদুল আজহা পালন করেন। সকাল ৮টায় রামগঞ্জ উপজেলার খানকায়ে মাদানিয়া কাসেমিয়া মাদ্রাসা ও নোয়াগাঁও ঈদগাহ ময়দানে জামাত অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়রা জানান, মাওলানা ইসহাক (রহ.)–এর অনুসারীরা প্রায় ৪০ বছর ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ধর্মীয় উৎসব পালন করছেন।

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার শেখর ও রুপাপাত ইউনিয়নের অন্তত ১০ গ্রামের মানুষও একদিন আগে ঈদের নামাজ আদায় করেন। সহস্রাইল দায়রা শরীফ, রাখালতলি ও মাইটকুমরা মসজিদে চারটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। আলফাডাঙ্গা সরকারি ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মাহিদুল হক জানান, চট্টগ্রামের মির্জাখিল শরীফ ও সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে এ অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে আগাম রোজা ও ঈদ পালন করে আসছেন।

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার চটকাবাড়িয়া, ভালকি ও নিত্যানন্দপুর গ্রামেও ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার প্রায় তিন শতাধিক পরিবার সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ পালন করেছে।

বরগুনার ১৬টি গ্রামে হযরত কাদেরিয়া চিশতিয়া তরিকা পন্থী ও কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের অনুসারীরা আগাম ঈদ উদযাপন করেন। বেতাগীর বকুলতলী গ্রামে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ১৫০ বছর ধরে এ অঞ্চলে এভাবে ঈদ পালনের প্রচলন রয়েছে।

সাতক্ষীরার সদর, কলারোয়া ও পাইকগাছা উপজেলার ২০টির বেশি গ্রামের মানুষ আগাম ঈদ পালন করেন। সদর উপজেলার কুশখালী বাউকোলা এলাকায় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। খুতবায় মাওলানা মাহবুবুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উদযাপন করছেন।

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার কৃষ্ণপুর মুসলিম জামে মসজিদে সীমিত পরিসরে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে নারী-পুরুষ মিলিয়ে পাঁচজন মুসল্লি অংশ নেন। ইমাম রহিম গাজী বলেন, বিষয়টি কেবল সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রাখার নয়; বরং চাঁদ পুরো পৃথিবীর জন্য উদিত হয় এবং ভৌগোলিক কারণে সব দেশে একই সময়ে তা দেখা সম্ভব হয় না।

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার ডহরশংকর গ্রামে অর্ধশতাধিক পরিবার ঈদ উদযাপন করে। দারুস সুন্নাহ জামে মসজিদের ঈদগাহ মাঠে নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক জামাত অনুষ্ঠিত হয়। মসজিদটির সভাপতি রিপন হাওলাদার জানান, ২০১৩ সাল থেকে তারা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও দুই ঈদ পালন করছেন।

পটুয়াখালীর বিভিন্ন উপজেলার ৩৫ গ্রামের প্রায় ২৫ হাজার মানুষ বুধবার ঈদ উদযাপন করেন। সদর উপজেলার বদরপুর দরবার শরীফে কেন্দ্রীয় জামাত অনুষ্ঠিত হয়। অংশগ্রহণকারীরা জানান, প্রায় ১০০ বছর ধরে এ অঞ্চলে এভাবেই ঈদ পালন করা হচ্ছে।

ভোলার সাত উপজেলার অন্তত ১০টি গ্রামে বিভিন্ন দরবারের অনুসারীরা ঈদ পালন করেন। বোরহানউদ্দিন উপজেলার মনিরাম ও মুলাইপত্তন গ্রামে বড় জামাত অনুষ্ঠিত হয়। অনুসারীরা জানান, এটি একদিন আগে ঈদ পালনের বিষয় নয়, বরং ভৌগোলিক কারণে চাঁদ দেখার পার্থক্যের ফল।

নোয়াখালীর সদর, কবিরহাট ও বেগমগঞ্জ উপজেলার পাঁচ গ্রামের মুসল্লিরা বুধবার ঈদুল আজহা উদযাপন করেন। জেলার ১০টি মসজিদে একযোগে জামাত অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় ধর্মীয় নেতারা জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চাঁদ দেখার ভিত্তিতেই তারা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ পালন করছেন।

অন্যদিকে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ঈদের আনন্দ ছিল অনেকটাই ম্লান। খাদ্য সহায়তা কমে যাওয়ায় অধিকাংশ পরিবার কোরবানি দিতে পারেনি। অনেকের জন্য ঈদের দিনে সামান্য মাংস সংগ্রহ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

ক্যাম্পের বাসিন্দা আবেদ উল্লাহ বলেন, ঈদ উদযাপন এখন তাদের কাছে স্বপ্নের মতো হয়ে গেছে। আর স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক এনজিওর কর্মী নাজমুল হোসেন জানান, খাদ্য সহায়তা কমে যাওয়ার প্রভাব শুধু খাবারের সংকটে সীমাবদ্ধ নেই; এতে শিশুদের পুষ্টিহীনতা, মানসিক চাপ ও পরিবারগুলোর হতাশাও বাড়ছে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

জাতীয় এর অন্যান্য সংবাদ

সাত দিনের ছুুটিতে সীমিত পরিসরে আজও খোলা ব্যাংক

সাত দিনের ছুুটিতে সীমিত পরিসরে আজও খোলা ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটির মধ্যেও পুরোপুরি বন্ধ থাকছে না দেশের ব্যাংকিং কার্যক্রম। তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ... বিস্তারিত