ঢাকা, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২

সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন পদ্ধতি যেভাবে, জানুন বিস্তারিত

২০২৬ এপ্রিল ০৬ ১৬:২৮:৪৮

সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন পদ্ধতি যেভাবে, জানুন বিস্তারিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়, যা সাধারণ আসনের নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভরশীল। এই ব্যবস্থায় সরাসরি ভোটারদের অংশগ্রহণ না থাকলেও সংসদের গঠনে নারীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়।

আইন অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের মোট ৩৫০টি আসনের মধ্যে ৩০০টি আসনে সাধারণ ভোটারদের সরাসরি ভোটে প্রতিনিধি নির্বাচিত হন। বাকি ৫০টি আসন কেবল নারীদের জন্য সংরক্ষিত থাকে। দল বা জোটগুলো ৩০০ আসনের নির্বাচনে যে কয়টি আসন জয়লাভ করে, সেই অনুপাত অনুযায়ী এই ৫০টি সংরক্ষিত আসন বণ্টন করা হয়।

সংরক্ষিত আসনের সংখ্যা নির্ধারণের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট গাণিতিক সূত্র ব্যবহার করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দলের প্রাপ্ত সাধারণ আসন সংখ্যাকে ৫০ দিয়ে গুণ করে ৩০০ দিয়ে ভাগ করা হয়। এই হিসাবের মাধ্যমে দলগুলো তাদের প্রাপ্য আসন সংখ্যা জানতে পারে।

আসন বণ্টনের পর রাজনৈতিক দলগুলো তাদের অনুকূলে বরাদ্দ পাওয়া আসনে যোগ্য নারী প্রার্থীদের মনোনয়ন দেয়। এরপর ৩০০টি সাধারণ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা ভোটার হিসেবে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিয়ে তাঁদের নির্বাচিত করেন। তবে বাস্তবে দলগুলো তাদের প্রাপ্য আসনের চেয়ে বেশি প্রার্থী সাধারণত দেয় না। এর ফলে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় নির্বাচন কমিশন বাছাই শেষে প্রার্থীদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করে।

সংরক্ষিত নারী আসনের কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানা বা এলাকা থাকে না। কমিশন এগুলোকে এলাকাভিত্তিক না করে ‘সংরক্ষিত মহিলা আসন-১’, ‘সংরক্ষিত মহিলা আসন-২’ এভাবে ক্রমানুসারে চিহ্নিত করে। তবে তাঁরা সাধারণ সংসদ সদস্যদের মতোই রাষ্ট্রীয় আইন প্রণয়ন, সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে দায়িত্ব পালন এবং নিজ নিজ এলাকার উন্নয়নে সরকারি অনুদান পেয়ে থাকেন।

এই পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া ‘জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন আইন, ২০০৪’ অনুযায়ী পরিচালিত হয়। প্রার্থী হতে হলে সংশ্লিষ্ট নারীকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে এবং তাঁর বয়স কমপক্ষে ২৫ বছর হতে হবে। পাশাপাশি মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় নির্বাচন কমিশনের অনুকূলে ২০ হাজার টাকা জামানত জমা দিতে হয়। সাধারণ নির্বাচনের পর তফসিল ঘোষণা করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নির্বাচন কমিশন এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে থাকে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত