ঢাকা, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ১১ চৈত্র ১৪৩২

সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ দিনে শতাধিক প্রাণহানি, আহত সহস্রাধিক

২০২৬ মার্চ ২৫ ১৩:০৯:৪৮

সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ দিনে শতাধিক প্রাণহানি, আহত সহস্রাধিক

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈদুল ফিতরের ছুটির সময় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা উদ্বেগজনক রূপ নেয়ার পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি তথ্যের মধ্যে বড় ব্যবধান দেখা গেছে, যা তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) জানিয়েছে, ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত সাত দিনের ছুটিতে ৯২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১০০ জন নিহত এবং ২১৭ জন আহত হয়েছেন। তবে বেসরকারি সংস্থা রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে অন্তত ২৬৮টি দুর্ঘটনায় ২০৪ জন নিহত এবং ছয় শতাধিক আহত হয়েছেন।

সরকারি তালিকায় অনেক বড় দুর্ঘটনা অন্তর্ভুক্ত হয়নি। উদাহরণস্বরূপ, কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে বাস দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত হওয়ার ঘটনা সরকারি তালিকায় নেই। এ ছাড়া রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে দুর্ঘটনায় আহতদের চাপ চোখে পড়ার মতো ছিল। জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে ঈদের আগের রাত থেকে পরদিন বিকেল পর্যন্ত ১৫১ জন আহত রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। আহতদের অধিকাংশই মোটরসাইকেল, ব্যাটারি চালিত রিকশা ও ইজিবাইক দুর্ঘটনায় আক্রান্ত।

ঈদযাত্রা সাধারণত ১৫ দিন ধরে বিবেচনা করা হয়—ঈদের আগে সাত দিন, ঈদের দিন এবং পরের সাত দিন। গত বছর এই সময়ে ৩১৫টি দুর্ঘটনায় ৩২২ জন নিহত হন। ২০২৪ সালে একই সময়ে ৩৭২টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন ৪১৬ জন, যা এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ১৭ মার্চ ১২টি দুর্ঘটনায় ১৫ জন নিহত ও ১৫ জন আহত হন। ১৮ মার্চ ১৮টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ১৩ জন এবং আহত হন ৬২ জন। ১৯ মার্চ ১১টি দুর্ঘটনায় নিহত হন ৮ জন, আহত ৭ জন। ২০ মার্চ ছয়টি দুর্ঘটনায় ৮ জনের মৃত্যু ও ৩৬ জন আহত হয়। ২১ মার্চ ১৭টি দুর্ঘটনায় ১৫ জন নিহত এবং ২৫ জন আহত হন। ২২ মার্চ ১৯টি দুর্ঘটনায় সর্বোচ্চ ৩২ জন নিহত ও ৬০ জন আহত হন। ২৩ মার্চ ৯টি দুর্ঘটনায় ৯ জন নিহত এবং ১২ জন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান জানিয়েছেন, এই তথ্য প্রাথমিক পর্যায়ের এবং ছুটি শেষে পূর্ণাঙ্গ তথ্য মিললে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তিনি আশঙ্কা করছেন, এবারের ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনায় নতুন রেকর্ড হতে পারে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ঈদের পর কর্মস্থলে ফেরার সময় সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। কারণ, এই সময়ে আইন প্রয়োগ ও নজরদারি তুলনামূলকভাবে কম থাকে।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত