ঢাকা, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬, ৯ চৈত্র ১৪৩২

তীব্র জ্বালানি সংকটে বন্ধ এক জেলার সব পাম্প

২০২৬ মার্চ ২৩ ১৬:০৩:৩৭

তীব্র জ্বালানি সংকটে বন্ধ এক জেলার সব পাম্প

নিজস্ব প্রতিবেদক: গাইবান্ধা জেলায় তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দেওয়ায় স্বাভাবিক যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের সরবরাহ মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ায় জেলার সাত উপজেলার মোট ১৭টি ফিলিং স্টেশন বন্ধ হয়ে গেছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালক ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।

সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে গাইবান্ধা পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান উজ্জ্বল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। শহর ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে খোঁজ নিয়ে একই পরিস্থিতির কথা জানা গেছে।

জ্বালানি সংকট নিরসনে জেলা প্রশাসন পাম্প মালিকদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেছে। দুপুর তিনটার দিকে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে সংকটের কারণ ও সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে আলোচনা চলছে।

ফিলিং স্টেশন সূত্রে জানা যায়, গাইবান্ধা জেলায় প্রতিদিন প্রায় ৭ হাজার লিটার পেট্রোল, ৪ হাজার লিটার অকটেন এবং ৩২ হাজার লিটার ডিজেলের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে সরবরাহ হচ্ছে তার অর্ধেকেরও কম। ফলে পাম্পগুলোতে স্বাভাবিকভাবে তেল বিক্রি চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি।

সংকটকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে। শহরের দাড়িয়াপুর রোডের গাইবান্ধা ফিলিং স্টেশনে তেল না পেয়ে ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের হামলায় দুই কর্মচারী আহত হয়েছেন। তাদের একজনের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শহরের এস এ কাদির অ্যান্ড সন্স ফিলিং স্টেশন গত তিন দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ক্যাশ সরকার মিঠু মিয়া জানান, কয়েকদিন ধরে কোনো তেল সরবরাহ না পাওয়ায় পাম্প বন্ধ রাখতে হয়েছে। সীমিত তেল নিয়ে বিক্রি শুরু করলে জনরোষ ও সংঘর্ষের আশঙ্কা থাকে বলেও জানান তিনি।

একই অবস্থা রহমান ফিলিং স্টেশনেও। ম্যানেজার জুয়েল মিয়া বলেন, সংকটের শুরুতে মোটরসাইকেলে ২০০ টাকার তেল দেওয়া হলেও পরে তা ১০০ টাকায় নামিয়ে আনা হয়। শেষ পর্যন্ত তেল একেবারেই শেষ হয়ে যাওয়ায় পাম্পটি বন্ধ করতে হয়েছে।

এদিকে পাম্পে তেল না থাকলেও খোলা বাজারে বেশি দামে জ্বালানি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। অনেকের দাবি, এক লিটার তেল ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকেই।

পাম্প মালিকদের মতে, বাইরের এলাকা থেকে অতিরিক্ত মোটরসাইকেল আসা, আতঙ্কে বেশি করে তেল সংগ্রহ এবং মজুদ করার প্রবণতা সংকটকে আরও তীব্র করেছে। পাশাপাশি চাহিদার তুলনায় অর্ধেক সরবরাহ পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।

এদিকে তেল পাওয়ার আশায় শহরের বিভিন্ন পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে মোটরসাইকেল চালকদের। অনেকেই দীর্ঘ অপেক্ষার পরও তেল না পেয়ে খালি হাতে ফিরছেন।

ভুক্তভোগী বাইকার সিয়াম বলেন, সরকার বলছে তেলের ঘাটতি নেই, কিন্তু বাস্তবে পাম্পগুলোতে তেল পাওয়া যাচ্ছে না। এতে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

আরেক গ্রাহক আবু সালেহ জানান, তিন দিন গাড়ি ব্যবহার করতে পারেননি। সোমবার বের হয়ে চারটি পাম্প ঘুরেও কোথাও তেল পাননি।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে জেলার পরিবহন ব্যবস্থা পুরোপুরি অচল হয়ে পড়তে পারে এবং জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে।

এমজে/

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত