ঢাকা, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৮ মাঘ ১৪৩২

৫টি এজেন্ডা নিয়ে আজ বৈঠকে বসছে এনটিআরসিএ

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১০ ১১:১৫:৪৭

৫টি এজেন্ডা নিয়ে আজ বৈঠকে বসছে এনটিআরসিএ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সংশ্লিষ্ট শীর্ষ পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নিতে উদ্যোগ নিয়েছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। এ লক্ষ্যে আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) একটি সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে নিয়োগ কার্যক্রমের সময়সূচি ও পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম।

এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান জানান, আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগের আবেদন গ্রহণ শেষ হবে। আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর দ্রুত পরীক্ষা আয়োজনসহ অন্যান্য ধাপের নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ কারণেই প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ কমিটির সভা আহ্বান করা হয়েছে।

সভার আলোচ্যসূচি সম্পর্কে তিনি বলেন, সম্ভাব্য লিখিত পরীক্ষার সময়, ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ, মৌখিক পরীক্ষা শুরুর সময়, ভাইভা বোর্ডের সংখ্যা এবং পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া কখন শেষ করা যাবে এসব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। এসব সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরি করে পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

এদিকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানপ্রধান নিয়োগসংক্রান্ত সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে এনটিআরসিএ। সংশোধিত বিজ্ঞপ্তিতে পরীক্ষার ফি ৩৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ পদের শূন্যপদ নতুন করে যুক্ত করা হয়েছে।

সোমবার প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধান পদে নিয়োগের জন্য মোট ১৩ হাজার ৫৫৯টি শূন্যপদের বিপরীতে পরীক্ষা নেওয়া হবে। তবে মাঠপর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী এই সংখ্যা কিছুটা কমবেশি হতে পারে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় শূন্যপদ রয়েছে ১০ হাজার ২৭৮টি, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে ১৯০টি এবং মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় ৩ হাজার ১৩১টি তিন অধিদপ্তর মিলিয়ে মোট শূন্যপদ ১৩ হাজার ৫৫৯টি।

এনটিআরসিএ সূত্র জানায়, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, সুপারিনটেনডেন্ট ও সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট পদে নিয়োগ সুপারিশের জন্য তিনটি অধিদপ্তর থেকে মাঠপর্যায়ে শূন্যপদের চাহিদা সংগ্রহ করা হয়েছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে স্নাতক পাস কলেজে অধ্যক্ষ ৫৮৪টি ও উপাধ্যক্ষ ৬২৭টি, উচ্চ মাধ্যমিক কলেজে অধ্যক্ষ ৫১১টি এবং উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অধ্যক্ষ ২৫৭টি শূন্যপদ রয়েছে। এছাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ৩ হাজার ৯২৩টি ও সহকারী প্রধান শিক্ষক ৩ হাজার ৮৭২টি এবং নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ৫০৪টি শূন্যপদ—সব মিলিয়ে এ খাতে মোট ১০ হাজার ২৭৮টি শূন্যপদ।

কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যক্ষ ১১০টি, ভোকেশনাল প্রতিষ্ঠানে সুপারিনটেনডেন্ট ৪০টি এবং সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট ৪০টি—মোট ১৯০টি শূন্যপদ রয়েছে।

মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় কামিল পর্যায়ে অধ্যক্ষ ৩৪টি ও উপাধ্যক্ষ ৫৩টি, ফাজিল পর্যায়ে অধ্যক্ষ ২০২টি ও উপাধ্যক্ষ ৩৪৩টি, আলিম পর্যায়ে অধ্যক্ষ ২১৯টি ও উপাধ্যক্ষ ৩৭৭টি শূন্যপদ রয়েছে। এছাড়া দাখিল পর্যায়ে সুপারিনটেনডেন্ট ৮৯৯টি ও সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট ১ হাজার ৪টি মোট শূন্যপদ ৩ হাজার ১৩১টি।

সংশোধিত বিজ্ঞপ্তিতে আবেদন লিংকও উল্লেখ করা হয়েছে। আগ্রহী প্রার্থীদের http://ngi.teletalk.com.bd ওয়েবসাইটে নির্ধারিত ফরম পূরণ করে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। বিস্তারিত তথ্য এনটিআরসিএর ওয়েবসাইট (https://ntrca.gov.bd) ও টেলিটক পোর্টালে পাওয়া যাবে। ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৯ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত আবেদন করা যাবে এবং ২০ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা ৫৯ মিনিটের মধ্যে ২৫০ টাকা ফি জমা দেওয়া যাবে।

নিয়োগ পরীক্ষার পূর্ণমান ১০০। এর মধ্যে এমসিকিউতে ৮০ নম্বরের জন্য সময় থাকবে এক ঘণ্টা, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদের জন্য ১২ নম্বর এবং মৌখিক পরীক্ষায় ৮ নম্বর বরাদ্দ। প্রতিটি ধাপে ন্যূনতম ৪০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে। এমসিকিউতে ৮০টি প্রশ্ন থাকবে সঠিক উত্তরে ১ নম্বর এবং ভুল উত্তরে ০.২৫ নম্বর কাটা যাবে; লিখিত ধাপ পেরোনো প্রার্থীরাই ভাইভায় অংশ নিতে পারবেন। পরীক্ষার বিষয় হিসেবে বাংলা, ইংরেজি, আইসিটি, মানসিক দক্ষতা ও গাণিতিক যুক্তি, বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সাধারণ জ্ঞান, প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত আইন, বিধি-বিধান ও নীতিমালা, আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরভিত্তিক নির্ধারিত বিষয়সমূহ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত