ঢাকা, শুক্রবার, ২৯ আগস্ট ২০২৫, ১৪ ভাদ্র ১৪৩২

ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের ইশতেহারে যা আছে

ডুয়া নিউজ- বিশ্ববিদ্যালয়
২০২৫ আগস্ট ২৯ ২০:৫৭:২৩
ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের ইশতেহারে যা আছে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনকে ঘিরে ছাত্রদল তাদের ইশতেহার ঘোষণা করেছে, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে একদিকে যেমন আশার জন্ম দিয়েছে, অন্যদিকে এর বাস্তবায়ন নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর সংশয়। আবাসন সংকট নিরসন থেকে শুরু করে শিক্ষার মানোন্নয়ন পর্যন্ত নানা ধরনের প্রতিশ্রুতিতে সাজানো হয়েছে আবিদ-হামিম-মায়েদ পরিষদের এই ইশতেহার। তবে শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন তুলছেন, এই প্রতিশ্রুতিগুলো কি সত্যিই পূরণ হবে, নাকি এটি কেবলই একটি দলীয় কাগুজে ইশতেহার হয়ে থাকবে?

গতকাল বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) ছাত্রদলের প্যানেলের ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান লিখিত ইশতেহার পাঠ করেন। ইশতেহারে আবাসন সংকট নিরসন, হল ও কো-কারিকুলার কার্যক্রমের উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা ও খাদ্য নিরাপত্তা, প্রশাসনিক সেবা ডিজিটালাইজেশন, লাইব্রেরি ও শিক্ষার মানোন্নয়ন, নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং পরিবহন সুবিধার উন্নয়নের মতো নানা প্রতিশ্রুতি রয়েছে। সংগঠন হিসেবে তারাই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে ইশতেহার ঘোষণা করেছে।

ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের ইশতেহার নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিকেশন স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী এস. এম. সাফফাত রহমান ইশতেহারকে শিক্ষার্থীবান্ধব এবং বৈষম্য দূরীকরণে সহায়ক বলে মনে করেন। তিনি আশা করেন, ১৫ বছরের সংগ্রামের অভিজ্ঞতা ছাত্রদলকে ইতিবাচক উপায়ে প্রতিশ্রুতি পালনে অনুপ্রাণিত করবে এবং তারা রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তি ভেঙে একটি শিক্ষামুখী সমাজের স্বপ্ন দেখছে।

তবে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ জিহাদ হাসান ইশতেহারকে শিক্ষার্থীবান্ধব বললেও এর বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তার মতে, ডাকসুর সীমিত ক্ষমতা নিয়ে অনেক দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, মাঠপর্যায়ে ছাত্রদলের সাংগঠনিক শক্তি কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী মো. আশরাফুর রহমান ইশতেহারকে সময়োপযোগী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি আশা করেন, ছাত্রদল জয়ী হলে দলীয় স্বার্থের চেয়ে শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে।

সমাজকল্যাণ ও গবেষণা বিভাগের শিক্ষার্থী নাজিম উদ্দীন ছাত্রদলের ১০ দফা ইশতেহারকে শিক্ষার্থীবান্ধব, অগ্রগতিমূলক এবং টেকসই বলেছেন। তিনি আবাসন সংকট নিরসন, গবেষণা খাতে বাজেট বরাদ্দ, নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং কারিকুলাম আধুনিকীকরণের মতো প্রতিশ্রুতিগুলোকে অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে মনে করেন।

অন্যদিকে, ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আবুল বাশার বিশ্বাস করেন, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা শিক্ষার্থীদের এজেন্ডা বাস্তবায়নেই অগ্রাধিকার দেবেন, যদি কখনো দলীয় সিদ্ধান্তের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মতের ভিন্নতা দেখা দেয়।

তবে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী সাগর হাসান ছাত্রদলের ইশতেহারকে সময়োপযোগী ও শিক্ষার্থীবান্ধব বললেও এর বাস্তবায়ন নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, গণরুম ও গেস্টরুম সংস্কৃতি কারা চালু করেছিল এবং ছাত্রদল মূল সংগঠনের বাইরে গিয়ে কতটা নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারবে, তা নিয়েও তিনি সন্দিহান।

ছাত্রদল মনোনীত জিএস প্রার্থী তানভীর বারী হামিম ঢাকা পোস্টকে জানান, তাদের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের মূল শক্তি হবে শিক্ষার্থীদের ভোট। তিনি শিক্ষার্থীদের ভোটে নির্বাচিত হলে তাদের ম্যান্ডেট নিয়ে কাজ করবেন এবং প্রতিশ্রুত ইশতেহার বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। দলীয় সিদ্ধান্ত ও শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হলে তিনি শিক্ষার্থীদের পাশেই থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

ইশতেহারে ১০টি প্রধান বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে: সৃজনশীল উদ্যোগ গ্রহণ; নারী শিক্ষার্থীদের পোশাকের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা; মেডিকেল সেন্টারের আধুনিকায়ন; কোর্স কারিকুলাম পর্যালোচনা ও আন্তর্জাতিকীকরণ; পরিবেশবান্ধব শাটল সার্ভিস; প্রশাসনিক কার্যক্রম ডিজিটালাইজেশন; নৃগোষ্ঠীর ভাষা-সংস্কৃতি চর্চা; একাডেমিক ইমেইল ও ক্লাউড স্টোরেজ; বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সবুজ ক্যাম্পাস; এবং একাডেমিক ক্যালেন্ডারে নিয়মিত ডাকসু নির্বাচন অন্তর্ভুক্ত করা।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

বিশ্ববিদ্যালয় এর অন্যান্য সংবাদ