ঢাকা, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩
‘আমার হৃদয়ে ফিলিস্তিন’ ম্যারাডোনার সেই বক্তব্য ফের আলোচনায়
স্পোর্টস ডেস্ক: আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের লড়াই মানেই শুধু মাঠের ফুটবলের হিসাব-নিকাশ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইতিহাস, আবেগ এবং দিয়েগো ম্যারাডোনার অমর স্মৃতি। ১৯৮৬ বিশ্বকাপের সেই ঐতিহাসিক ম্যাচের পর থেকে দুই দলের প্রতিটি মুখোমুখি লড়াইয়ে নতুন করে ফিরে আসে আর্জেন্টাইন কিংবদন্তির নাম।
আজ আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে যখন আলবিসেলেস্তেরা ইংল্যান্ডের থ্রি লায়ন্সদের মুখোমুখি হবে, তখন গ্যালারিতে উড়তে থাকা নীল-সাদা পতাকার মতোই আর্জেন্টাইন সমর্থকদের আবেগে জীবন্ত হয়ে উঠবেন ‘ফুটবল ঈশ্বর’ ম্যারাডোনা।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচকে ঘিরে বিশ্বকাপের আবহে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে তার জীবন ও অবস্থান। ২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেও মাঠের বাইরেও প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর হিসেবে তার পরিচিতি আজও স্মরণীয়। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন প্রগতিশীল আন্দোলনের প্রতি তিনি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন। ভেনেজুয়েলার হুগো শ্যাভেজ, কিউবার ফিদেল কাস্ত্রো এবং বলিভিয়ার ইভো মোরালেসের মতো নেতাদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।
ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বিভিন্ন সময় সরব ছিলেন ম্যারাডোনা। তার মৃত্যুর পর যুদ্ধবিধ্বস্ত ওই ভূখণ্ড থেকেও শোকবার্তা আসে। ২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর তার মৃত্যুর সংবাদে বিশ্বের পাশাপাশি শোক নেমে আসে ফিলিস্তিনেও।
হামাসের তৎকালীন মুখপাত্র সামি আবু জুহরি এক টুইটবার্তায় ম্যারাডোনার পরিবার এবং বিশ্বজুড়ে তার অগণিত ভক্ত-সমর্থকের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে লিখেছিলেন, ‘আমরা অত্যন্ত দুঃখিত, ‘ম্যারাডোনা’র মৃত্যুতে, যিনি প্যালেস্টাইনের অধিকার আদায়ের পক্ষের ছিলেন।’
বহু বছর ধরে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান নেওয়া আন্তর্জাতিক ক্রীড়াবিদদের মধ্যে ম্যারাডোনার নাম প্রায়ই আলোচনায় আসে। তিনি নিজেকে গর্বের সঙ্গে ‘প্যালেস্টেনিয়ান’ পরিচয়ে উল্লেখ করতেন বলেও বিভিন্ন সময় প্রচারিত হয়েছে।
২০১২ সালে ম্যারাডোনা নিজেকে ‘প্যালেস্টাইন জনগণের সবচেয়ে বড় ভক্ত’ বলে বর্ণনা করেন। সে সময় তিনি বলেন, ‘আমি তাদের শ্রদ্ধা করি এবং তাদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করি। আমি কোনো ভয় ছাড়াই প্যালেস্টাইনকে সমর্থন করি।’
দুই বছর পর, ২০১৪ সালে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের পর তিনি কঠোর সমালোচনা করে এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ইসরায়েল প্যালেস্টাইনদের সঙ্গে যা করছে, তা লজ্জাজনক।’
এ ছাড়া ২০১৫ সালে এএফসি এশিয়ান কাপ চলাকালে ফিলিস্তিনি জাতীয় দলকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিষয়ে ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছিল বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তবে এ দাবির পক্ষে জোরালো কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
২০১৮ সালের জুলাইয়ে রাশিয়ার মস্কোতে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ম্যারাডোনা। সেখানে তিনি আবারও ফিলিস্তিনের প্রতি নিজের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। আব্বাসকে আলিঙ্গন করে তিনি বলেন, ‘আমার হৃদয়ে, আমি প্যালেস্টাইন।’ পরে সেই মুহূর্তের একটি ভিডিও তার ইনস্টাগ্রাম পেজেও প্রকাশ করা হয়।
শুধু ফিলিস্তিন নয়, সিরিয়া ইস্যুতেও প্রতিবাদী অবস্থান নিতে দেখা গেছে ম্যারাডোনাকে। অ্যান্টি জর্জ বুশ লেখা টি-শার্ট পরেও তিনি একাধিকবার জনসম্মুখে উপস্থিত হন। মাঠের কিংবদন্তি হওয়ার পাশাপাশি সমাজ ও রাজনীতির বিভিন্ন ইস্যুতে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার কারণেও তিনি আলাদা পরিচিতি পেয়েছিলেন। তার মৃত্যুর পরও সেই প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর নানা প্রেক্ষাপটে ফিরে আসে আলোচনায়।
ইমামুল
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৩ সেপ্টেম্বর)
- প্রজ্ঞাপনের আগে পে স্কেলের বেতন তালিকা
- পে স্কেল নিয়ে নতুন বিজ্ঞপ্তি দিল অর্থ মন্ত্রণালয়
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স চতুর্থ বর্ষের ফল আজ
- ফের কমল স্বর্ণের দাম, ভরিতে ৭১১৫ টাকা
- জেনে নিন একাদশ-আলিমে ভর্তির আবেদন পদ্ধতি
- সাত কলেজের অনার্স চতুর্থ বর্ষের ফরম পূরণ স্থগিত
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ রিলিজ স্লিপের ফল প্রকাশ
- জুলাই থেকেই কার্যকর নতুন পে স্কেল, বকেয়া পাবেন যেভাবে
- হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষে ৪৩ জনের চাকরির সুযোগ
- শিক্ষক নিয়োগ দেবে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি
- আজ ঢাকায় সর্বোচ্চ লোডশেডিং, কোন এলাকায় কত
- এসএসসিতে ফেল করা শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সুখবর
- আজকের খেলার সময়সূচি (৩১ আগস্ট)
- নবম পে-স্কেল অনুমোদন, বেতন বাড়ল কত