ঢাকা, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২

নারী সেজে টিকটক করেছেন ছাত্রদল নেতা!

২০২৬ এপ্রিল ০৬ ১৮:৪২:৪২

নারী সেজে টিকটক করেছেন ছাত্রদল নেতা!

নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার কলেজ শাখা ছাত্রদল নেতা রেদোয়ান ইসলামকে ঘিরে জেন্ডার সংক্রান্ত তথ্য গোপনের অভিযোগে বহিষ্কারের ঘটনায় নতুন মোড় তৈরি হয়েছে। বিতর্কের মধ্যেই নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন তিনি, দাবি করেছেন তার বিরুদ্ধে ট্রান্সজেন্ডার সংক্রান্ত তথ্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও গুজব।

রিহিয়া রিহি নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে পোস্ট দিয়ে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন রেদোয়ান। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘প্রিয় কসবা বাসী, আমি আপনাদেরই রেদোয়ান। বর্তমানে আমাকে নিয়ে যে বিষয়টি নিয়ে সবাই সমালোচনা করছেন, সেটার স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্যই এই পোস্ট।’

পোস্টে তিনি আরও দাবি করেন, ‘আমি ট্রান্সজেন্ডার নই। আমি একজন সম্পূর্ণ ছেলে ও সংস্কৃতি কর্মী। দীর্ঘদিন ধরে সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত আছি। আমার কিছু কর্মকাণ্ড বা কনটেন্টের কারণে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেসব কনটেন্ট নিয়ে আলোচনা হয়েছে, সেগুলো ইতোমধ্যে সরিয়ে ফেলেছি।’

তিনি ভবিষ্যতে এ ধরনের বিষয়ে আরও সতর্ক ও সচেতন থাকার প্রতিশ্রুতিও ব্যক্ত করেন।

এ বিষয়ে রেদোয়ানের পিতা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তার ছেলের বিরুদ্ধে ট্রান্সজেন্ডার সংক্রান্ত তথ্য সঠিক নয়। তার ভাষায়, ঢাকার কিছু কনটেন্ট ক্রিয়েটর টিকটক ও ভিডিও বানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করে থাকে, রেদোয়ানও এ ধরনের কিছু ভিডিও তৈরি করে ফেসবুকে শেয়ার করেছিল। পরে সে নিজেই ফেসবুকে ক্ষমা চেয়ে ভবিষ্যতে এমন কাজ না করার প্রতিশ্রুতি দেয়। পরিবারের কেউই এসব কর্মকাণ্ড সমর্থন করেনি বলেও জানান তিনি। বর্তমানে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর রেদোয়ান বাড়িতে নেই বলেও উল্লেখ করেন তার পিতা।

এর আগে রবিবার (৫ এপ্রিল) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক ও যুগ্ম আহ্বায়ক মামুন খান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে সৈয়দাবাদ আদর্শ মহাবিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক রেদোয়ান ইসলামকে বহিষ্কারের বিষয়টি জানানো হয়।

জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সমীর চক্রবর্তী জানান, কমিটি ঘোষণার আগে রেদোয়ান তার জীবনবৃত্তান্তে নিজেকে পুরুষ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তবে পরবর্তীতে অভিযোগ ওঠে, তিনি লিঙ্গ পরিবর্তনের তথ্য গোপন করেছিলেন। এ কারণেই সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে বহিষ্কার করা হয়।

ঘটনাটি সামনে আসার পর রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে বিষয়টিকে ব্যক্তিগত পরিচয়ের স্বাধীনতা হিসেবে দেখছেন কেউ কেউ, অন্যদিকে অনেকে তথ্য গোপনকেই বহিষ্কারের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত