×

ঢাকা, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ১৫০ কূপ খনন, নতুন ৪টি এলএনজি টার্মিনালের পরিকল্পনা

২০২৬ অক্টোবর ১৯ ১৮:৩৬:১৮

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ১৫০ কূপ খনন, নতুন ৪টি এলএনজি টার্মিনালের পরিকল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের জ্বালানি সংকট কাটাতে ১৫০টি কূপ খননের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি গ্যাসের সরবরাহ বাড়াতে তিন থেকে চারটি নতুন ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল বা এফএসআরইউ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকায় ফোরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই) আয়োজিত ‘সাসটেইনেবল পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি: ড্রাইভিং ইনভেস্টমেন্ট ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সংকট ও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি খাত এখন অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।’ তিনি জানান, আগের সরকারের কাছ থেকে পাওয়া রাজস্ব ঘাটতি, ব্যাংক খাতের বিশৃঙ্খলা এবং বিদেশে ডলার পাচারের মতো সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠতে কাজ করছে বর্তমান সরকার।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে পূর্ণাঙ্গ কর ছাড় ও প্রণোদনা সুবিধা দেওয়া হয়েছে। বাসাবাড়ি ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এসব প্যানেল থেকে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ স্বাভাবিক ট্যারিফের তুলনায় বেশি দামে কিনে নেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, চুক্তিভিত্তিক অনুসন্ধানের পাশাপাশি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স) শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ১৫০টি কূপ খননের সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনার অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া তিন থেকে চারটি নতুন এফএসআরইউ চালুর পরিকল্পনায় কোরীয়, চীনা ও মার্কিন বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা যুক্ত হচ্ছেন।

জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়নে মাতারবাড়ীর পাশাপাশি খুলনার কাছে ২০ মিটার ড্রাফটের একটি নতুন স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে বড় জাহাজ থেকে সরাসরি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) খালাসের সুবিধাসহ আধুনিক টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে একটি জ্বালানি হাব গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

দেশের অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ জানিয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, একটি যৌক্তিক সময়ের মধ্যে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি এবং জ্বালানি খাত পুরোপুরি স্থিতিশীল হবে বলে তিনি আশা করেন।

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত