×

ঢাকা, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

হাসান মাহমুদ বাংলাদেশের এক নম্বর পেসার হয়ে উঠছেন: মাহরুফ

২০২৬ অক্টোবর ১১ ২১:০৪:০৮

হাসান মাহমুদ বাংলাদেশের এক নম্বর পেসার হয়ে উঠছেন: মাহরুফ

নিজস্ব প্রতিবেদক: আফগানিস্তানের বিপক্ষে আবুধাবি টেস্টে হ্যাটট্রিকসহ পাঁচ উইকেট শিকার করে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন বাংলাদেশের পেসার হাসান মাহমুদ। তাঁর নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ ও ধারাবাহিক বোলিং মুগ্ধ করেছে ধারাভাষ্যকারদের। চলতি সিরিজে ধারাভাষ্য দেওয়া শ্রীলঙ্কার পারভেজ মাহরুফ মনে করেন, পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতায় হাসান ধীরে ধীরে বাংলাদেশের এক নম্বর পেসার হয়ে উঠছেন।

২০২৪ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক টেস্টে অভিষেক হয় হাসানের। এরপর থেকে বোলিংয়ে নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর পাশাপাশি ধারাবাহিকতাও ধরে রেখেছেন তিনি। ২০২০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ থেকেই হাসানকে দেখছেন মাহরুফ। সেই সময়ের সঙ্গে তুলনা করে তাঁর বোলিংয়ে উন্নতির বিষয়টি তুলে ধরেছেন এই সাবেক শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটার।

হাসানের সাম্প্রতিক বোলিং নিয়ে মাহরুফ বলেন, ‘আজ হাসানের বোলিংয়ের যে স্পেল, সেটাই আমাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে। ২০২০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে খেলার সময় থেকে আমি তাকে দেখছি। ধীরে ধীরে সে যে জায়গাটায় উন্নতি করেছে, সেটা হলো বোলিংয়ের নিয়ন্ত্রণ। শুরুতে সে ঘণ্টায় ১৩৫ থেকে ১৪০ কিলোমিটার গতিতে বল করত, আরও দ্রুত ছিল, কিন্তু নিয়ন্ত্রণ কম ছিল। ২০২৪ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চট্টগ্রামে অভিষেকের পর থেকে সে লাইন ও লেংথের ওপর বেশি মনোযোগী হয়েছে। সবকিছুই ধারাবাহিকতার ব্যাপার। আমার কাছে সে ধীরে ধীরে বাংলাদেশের এক নম্বর পেসার হয়ে উঠেছে।’

আফগানিস্তানের বিপক্ষে হ্যাটট্রিকের পাশাপাশি পাঁচ উইকেট নেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন বলের সঠিক ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। নিজের বোলিংয়ের কৌশল ব্যাখ্যা করে হাসান বলেন, ‘আমি শুধু সোজা বল করতে চেয়েছি। এটাই। বলকে তার কাজ করতে দিতে চেয়েছি। তাই স্ট্যাম্প টু স্ট্যাম্প বোলিং করে গেছি। বাকিটা বল নিজেই করেছে।’

বোলিংয়ে সুইং আদায় এবং বলের দৈর্ঘ্য ঠিক রাখার বিষয়েও নিজের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন হাসান। অফ স্ট্যাম্পের বাইরে বল সুইং করানো এবং নতুন বলকে যথাসম্ভব কার্যকরভাবে কাজে লাগানোই ছিল তাঁর উদ্দেশ্য।

হাসান বলেন, ‘আসলে আমি একটু অ্যাঙ্গেল তৈরি করে বল করার চেষ্টা করেছি, যাতে বল অফ স্ট্যাম্পের বাইরে সুইং করে। নতুন বল যতটা সম্ভব কাজে লাগাতে চেয়েছি। স্টাম্প ও অফ স্ট্যাম্পের লাইনে সোজা বল করে পিচে আঘাত করানোর চেষ্টা করেছি।’

হ্যাটট্রিকের সময় ডিআরএস নেওয়ার সিদ্ধান্তের আগে সতীর্থদের সঙ্গে আলোচনা করেন হাসান। প্রথম ইনিংসে কয়েকটি রিভিউ নেওয়ার অভিজ্ঞতা থাকায় এবার বল স্ট্যাম্পে লাগবে কি না, তা নিয়ে দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে আলোচনা হয়।

সেই মুহূর্তের অনুভূতি জানিয়ে হাসান বলেন, ‘এটা অসাধারণ অনুভূতি। প্রথম ইনিংসে আমরা কয়েকটি ডিআরএস নিয়েছিলাম। তাই সবাই ভাবছিলাম, এবার বলটি স্ট্যাম্পে লাগবে কি না। লিটন দাস ও অধিনায়ক বলছিলেন যে, বলটি স্ট্যাম্পে লাগবে, আমরা রিভিউ নিতে পারি।’

মাঠে সতীর্থদের কাছ থেকে পাওয়া উৎসাহও তাঁর কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। হাসান বলেন, ‘এটা আমার জন্য বিশেষ কিছু। শেষ বল পর্যন্ত সবাই আমাকে উৎসাহ দিয়েছে। সতীর্থদের কাছ থেকে এমন প্রতিক্রিয়া পেয়ে খুব ভালো লাগছে।’

টেস্ট ক্রিকেটে ধারাবাহিকতা বজায় রেখে সামনে এগিয়ে যেতে চান হাসান। দেশের মাটিতে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচ খেলার পর দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে টেস্ট খেলতে যাওয়ার অপেক্ষায় আছেন তিনি।

নিজের লক্ষ্য সম্পর্কে হাসান বলেন, ‘আমি এভাবেই এগিয়ে যেতে চাই। সামনে দেশের মাটিতে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচ আছে, এরপর দক্ষিণ আফ্রিকায় টেস্ট খেলতে যাব। সামনে বড় বড় পরীক্ষা অপেক্ষা করছে।’

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত