×

ঢাকা, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩

কৃষক কার্ড বিতরণে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি: কায়সার কামাল

২০২৬ অক্টোবর ০২ ১১:১৪:৩৬

কৃষক কার্ড বিতরণে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি: কায়সার কামাল

নিজস্ব প্রতিবেদক: কৃষক কার্ডসহ সরকারি সহায়তা বিতরণে অনিয়ম, দুর্নীতি ও দলীয় প্রভাবের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বলেছেন, প্রকৃত ও যোগ্য কৃষকদের কাছে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সরকারি সহায়তা পৌঁছে দিতে হবে এবং অনিয়মের ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভার্চুয়ালি এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি ইউনিয়নের ১ হাজার ১৭০ জন কৃষকের হাতে কৃষক কার্ড তুলে দেওয়া হয়। সরকারি কৃষি সহায়তা কর্মসূচির আওতায় এসব কৃষককে কার্ড দেওয়া হয়েছে।

কায়সার কামাল বলেন, কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তির দলীয় পরিচয়, ধর্ম, বর্ণ বা অন্য কোনো বিষয় বিবেচনা করা যাবে না। প্রকৃত ও যোগ্য কৃষকদের স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কার্ড দিতে হবে। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের এ বিষয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, জনগণের জন্য সরকার যে অনুদান ও সুযোগ-সুবিধা বরাদ্দ করে- তা সঠিক ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেওয়া প্রশাসনের দায়িত্ব। কেউ কার্ড বিতরণে অনিয়ম করলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে অতীতে কিছু ভুলত্রুটির কথা উল্লেখ করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, সেসব সমস্যা চিহ্নিত করে সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কৃষক কার্ড বিতরণের ক্ষেত্রেও যাতে কোনো অনিয়ম না ঘটে, সে বিষয়ে শুরু থেকেই সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

দুর্গাপুর-কলমাকান্দার জামদানি শিল্পের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এ অঞ্চলের জামদানি ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিচিতি পেয়েছে। কোনো কোনো জামদানি শাড়ি দুই থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। কারিগরদের আর্থিক প্রণোদনা ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে দুর্গাপুর-কলমাকান্দাকে জামদানি শিল্পের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।

পাহাড়ি এলাকায় খাবার পানির সংকট ও বন্য হাতির উপদ্রব প্রসঙ্গে কায়সার কামাল বলেন, শেরপুর ও নেত্রকোনার পাহাড়ি অঞ্চলকে অন্তর্ভুক্ত করে এ দুই সমস্যা সমাধানে সমন্বিত প্রকল্প নেওয়ার উদ্যোগ চলছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পাহাড়ি এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনিয়ম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো ধরনের অনিয়মকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে। যারা তা করবেন না, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে নেত্রকোনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. আনোয়ারুল হক, নেত্রকোনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ডা. রফিকুল ইসলাম হেলালী, জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান নুরু, পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও কৃষকেরা উপস্থিত ছিলেন।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

জাতীয় এর অন্যান্য সংবাদ