×

ঢাকা, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩

কুমিল্লায় বিস্ফোরক মামলায় ২০ বছর পর  তিনজনের কারাদণ্ড

২০২৬ আগস্ট ১৯ ২১:৩২:২৭

কুমিল্লায় বিস্ফোরক মামলায় ২০ বছর পর  তিনজনের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক: কুমিল্লায় বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে দায়ের করা একটি আলোচিত মামলার প্রায় ২০ বছর পর রায় দিয়েছেন আদালত। নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে মামলাটিতে দুই আসামিকে ২০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক নারী আসামিকে ৮ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-৬) আদালতের বিচারক খাইরুন নেছা এ রায় দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের পরিদর্শক মো. সাদেকুর রহমান।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন নওগাঁ জেলার কলমীডাঙ্গা গ্রামের মো. মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে মিন্টু এবং গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার চকপাড়া এলাকার মোহাম্মদ দুরুল হুদা ওরফে হাসান। অপর দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি দুরুল হুদার স্ত্রী খালেদা আক্তার রানী।

মামলার অভিযোগ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালের ১৩ মার্চ গভীর রাতে জেএমবি সদস্যদের নাশকতার পরিকল্পনার খবর পেয়ে কুমিল্লা নগরীর বিষ্ণুপুর এলাকার রৌশন ভিলায় অভিযান চালায় র‌্যাব-৭। রাতভর ওই বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বোমা তৈরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন বিস্ফোরক দ্রব্য, রাসায়নিক পদার্থ, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, ইলেকট্রিক ডেটোনেটর ও ব্যাটারিসহ বেশ কিছু উপকরণ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় র‌্যাব-৭-এর ডিএডি মো. জয়নাল আবেদীন ওই দিনই কোতয়ালী মডেল থানায় বিস্ফোরক আইনে মামলা করেন। মামলায় বলা হয়, তৎকালীন র‌্যাবের ঢাকাস্থ সদর দপ্তরের হেফাজতে থাকা জেএমবি নেতা শায়খ আবদুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিষ্ণুপুর এলাকায় জেএমবি সদস্যদের অবস্থান শনাক্ত ও তাদের আটকের জন্য ওই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

কুমিল্লা আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিংকু বলেন, মামলাটি বেশ আলোচিত ছিল। ১৩ জন সাক্ষীর জবানবন্দি, আসামিদের বক্তব্য, জব্দ তালিকা ও মামলার অন্যান্য নথি পর্যালোচনা করে আদালত এ দণ্ডাদেশ দিয়েছেন।

রায়ে মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও মোহাম্মদ দুরুল হুদাকে ২০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং দুরুল হুদার স্ত্রী খালেদা আক্তার রানীকে ৮ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

খালেদা আক্তার রানীর সাজা নির্ধারণের ক্ষেত্রে তার তিন সন্তান থাকা, স্বামী কারাগারে থাকা এবং তার বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা না থাকার বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়। পরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দণ্ডপ্রাপ্তদের কারাগারে নেওয়া হয়।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত