×

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩

পুলিশকে না জানিয়ে ববি হাজ্জাজের কার্যালয় থেকে মাদকবিরোধী অভিযান

২০২৬ অক্টোবর ২০ ১০:৫৪:২৬

পুলিশকে না জানিয়ে ববি হাজ্জাজের কার্যালয় থেকে মাদকবিরোধী অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেনের অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা চলার মধ্যে মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পে আরেকটি অভিযান ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, পুলিশকে আগে থেকে না জানিয়ে ঢাকা-১৩ আসনের সংসদ সদস্য ও শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের কার্যালয় থেকে পরিচালিত ওই অভিযানে আরিফ হোসেন (৩০) নামে এক যুবককে মারধর করা হয়। এতে তাঁর মাথা ফেটে যায়।

ইশরাক হোসেনের অভিযানের পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলার মধ্যেই মোহাম্মদপুরের এ ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার রাত ১১টার দিকে জেনেভা ক্যাম্পের কলেজ গেট এলাকায় ঢাকা-১৩ আসনের সংসদ সদস্য ও শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের কার্যালয় থেকে মাদকবিরোধী অভিযান চালানো হয়। এতে ববি হাজ্জাজের নির্বাহী সহকারী ইনতিশার মাশুক প্রধানের নেতৃত্বে সুদীন, জিসানসহ চার-পাঁচজন যুবক অংশ নেন। তাঁরা এলাকায় সংসদ সদস্যের লোক হিসেবে পরিচিত।

তবে অভিযানের সঙ্গে সংসদ সদস্যের কার্যালয়ের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছেন মাশুক প্রধান। তাঁর দাবি, ওই কার্যালয় থেকে কোনো অভিযান পরিচালনা করা হয়নি। সেখানে একটি নাগরিক সংগঠন রয়েছে, যারা মাঝেমধ্যে এ ধরনের অভিযান চালায়। তিনি বলেন, ‘ওটা (অভিযান) এমপি মহোদয়ের না। এমপি মহোদয়ের তরফ থেকে এরকম কোনো অভিযান চালানো হয়নি।’

জানা গেছে, অভিযানের সময় মাদক সেবনরত অবস্থায় আরিফকে আটক করা হয়। পরে মারধরের একপর্যায়ে তাঁর মাথায় আঘাত লাগে এবং তা ফেটে যায়। আহত অবস্থায় তাঁকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হলে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা শেষে তাঁকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। আরিফের মাথায় চারটি সেলাই দিতে হয়েছে।

জেনেভা ক্যাম্পে অভিযান চালানোর আগে থানাকে জানানো হয়েছিল কি না, জানতে চাইলে মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম জানান, অভিযানের আগে পুলিশকে অবহিত করা হয়নি। তবে এক ব্যক্তির মাথা ফেটে যাওয়ার পর পুলিশকে ফোন করে জানানো হয় এবং আহত অবস্থায় তাঁকে গাড়িতে তুলে দেওয়া হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, আরিফকে ডোপ টেস্টের জন্য চিকিৎসকের কাছে পাঠানো হয়েছিল। চিকিৎসক তাঁর মাদক সেবনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পরে মাদক সেবন আইনে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত