×

ঢাকা, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩

নতুন পে-স্কেলে বেতন বাড়ছে এ মাসেই, ভাতা মিলবে ২০২৮ সালে

২০২৬ অক্টোবর ১৯ ১৮:০৪:১৬

নতুন পে-স্কেলে বেতন বাড়ছে এ মাসেই, ভাতা মিলবে ২০২৮ সালে

নিজস্ব প্রতিবেদক: নবম জাতীয় পে-স্কেল অনুযায়ী চলতি মাস থেকেই বর্ধিত বেতন পেতে যাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। তবে বেতন বাড়লেও এখনই বাড়ছে না ভাতা। এ জন্য তাঁদের ২০২৮ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে বলে জানা গেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন বেতনকাঠামোয় চলতি মাস থেকেই সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন নির্ধারিত হারে বাড়বে। ইতিমধ্যে অনেকেই পে-ফিক্সেশনের কাজ শেষ করেছেন। সেই হিসাব অনুযায়ী, চলতি মাস থেকে বর্ধিত বেতন প্রাপ্য হলেও তা আগামী মাসের বেতনের সঙ্গে হাতে পাবেন তাঁরা।

সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মূল বেতন বাড়লেও সরকারি চাকরিজীবীদের ভাতা আপাতত আগের মতোই থাকবে। তিন ধাপে মূল বেতন শতভাগ বৃদ্ধি সম্পন্ন হওয়ার পর ভাতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ২০২৮ সালের জানুয়ারি থেকে বর্ধিত ভাতা কার্যকর হতে পারে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের বেতন অনলাইনে নির্ধারণ করার কাজ চলছে। আগামীকাল মঙ্গলবার এটি শেষ হবে। ফলে চলতি মাস থেকেই বর্ধিত বেতন পাবেন চাকরিজীবীরা।’

নতুন পে-স্কেলের বকেয়া হিসাব করবেন যেভাবে

নতুন পে-স্কেল ২০২৬ কার্যকর হওয়ার পর ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কত টাকা বকেয়া পাওয়া যাবে, তা নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে আগ্রহ রয়েছে। এ হিসাব সহজ করতে তৈরি করা হয়েছে একটি এইচটিএমএল ক্যালকুলেটর ফরম। এতে গ্রেড এবং দুটি মূল বেতনের অঙ্ক দিলে নতুন মূল বেতন, বিশেষ সুবিধা ও বাড়িভাড়ার সমন্বয় এবং তিন মাসের বকেয়ার বিবরণ পাওয়া যাবে। ফরমটি পূরণের নিয়ম নিচে তুলে ধরা হলো।

তবে ক্যালকুলেটরে দেখানো নতুন পে-স্কেলের সব গ্রেডের বেতনধাপের নির্ভুলতা নিশ্চিত করা যায়নি। তাই হিসাবের সঠিকতা যাচাই করতে ক্যালকুলেটরের নিচে থাকা ‘স্কেল টেবিল’ অংশের তথ্য এস.আর.ও. নং ৩৪৭-আইন/২০২৬-এর মূল গেজেটের সঙ্গে মিলিয়ে নিতে হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পে-স্লিপ দেখে বাড়িভাড়া ভাতার হারও নিশ্চিত করতে হবে। এটি কোনো সরকারি বেতন নির্ধারণী ব্যবস্থা নয়, বরং অনানুষ্ঠানিক হিসাব সহায়ক। বেতনের চূড়ান্ত হিসাব নির্ধারিত হবে আইবাস++ ব্যবস্থার মাধ্যমে।

ব্যক্তিগত তথ্য

ক্যালকুলেটরের নির্ধারিত ঘরে নাম, পদবি এবং অফিস বা প্রতিষ্ঠানের নাম লিখতে হবে। হিসাবের বিবরণী ছাপানোর পর এসব তথ্য একেবারে ওপরে দেখা যাবে। তবে এই ঘরগুলো পূরণ না করলেও হিসাব করা যাবে।বেতনসংক্রান্ত তথ্যগ্রেড: ২০১৫ সালের বেতনকাঠামো অনুযায়ী ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে যে গ্রেডে কর্মরত ছিলেন, তালিকা থেকে সেটি নির্বাচন করতে হবে।

৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতন: পে-স্লিপ দেখে তালিকা থেকে প্রযোজ্য মূল বেতনের অঙ্ক বেছে নিতে হবে। তালিকায় অঙ্কটি না থাকলে ‘অন্য অঙ্ক লিখব’ অপশন নির্বাচন করে তা লিখতে হবে।

১ জুলাই ২০২৬-এ গৃহীত মূল বেতন: জুলাই মাসে বার্ষিক বেতনবৃদ্ধিসহ পুরোনো বেতনকাঠামো অনুযায়ী যে মূল বেতন পেয়েছেন, সেই অঙ্ক দিতে হবে।

কর্মস্থল: বাড়িভাড়া ভাতার হার নির্ধারণের জন্য কর্মস্থল নির্বাচন করতে হবে। এতে নিচের হারের ঘরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অঙ্ক আসবে। তবে পে-স্লিপে উল্লেখ করা হারের সঙ্গে মিলিয়ে প্রয়োজনে সেটি সংশোধন করা যাবে।

বকেয়ার মাস: শুরুতে তিন মাস—জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—নির্বাচন করা থাকবে। প্রয়োজন অনুযায়ী এই সময়সীমা এক থেকে ছয় মাস পর্যন্ত পরিবর্তন করা যাবে।

বার্ষিক বেতনবৃদ্ধির টিক: ১ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত চাকরির বয়স ছয় মাস পূর্ণ না হলে এই ঘরের টিক তুলে দিতে হবে।ঐচ্ছিক ঘরপে-স্লিপে উল্লেখ করা বাড়িভাড়া বা বিশেষ সুবিধার অঙ্ক ক্যালকুলেটরের হিসাবের সঙ্গে না মিললে ঐচ্ছিক ঘরে প্রকৃত অঙ্ক বসানো যাবে। আইবাস বা গেজেট থেকে নতুন মূল বেতনের অঙ্ক জানা থাকলে সেটিও এখানে দেওয়া সম্ভব। সে ক্ষেত্রে ক্যালকুলেটর ওই অঙ্ককেই হিসাবের ভিত্তি হিসেবে নেবে।

প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করলেই নিচে হিসাবের বিবরণী তৈরি হবে। এতে নতুন মূল বেতন নির্ধারণের ধাপগুলোর পাশাপাশি প্রথম ধাপে প্রাপ্য মূল বেতনের হিসাবও দেখানো হবে। এ পর্যায়ে ১০ থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিজীবীদের বেতনবৃদ্ধির ৫০ শতাংশ এবং প্রথম থেকে নবম গ্রেডের চাকরিজীবীদের ৪০ শতাংশ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

মাসিক হিসাব

মাসিক হিসাবের বিবরণীতে প্রাপ্য ও গৃহীত মূল বেতনের পার্থক্য দেখানো হবে। এর সঙ্গে ৩০ জুনের মূল বেতনের ভিত্তিতে প্রাপ্য বাড়িভাড়া এবং গৃহীত মূল বেতনের ভিত্তিতে নেওয়া বাড়িভাড়ার সমন্বয় করা হবে। পাশাপাশি বিলুপ্ত বিশেষ সুবিধার ১০ বা ১৫ শতাংশ বাদ দিয়ে হিসাব উপস্থাপন করা হবে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত