×

ঢাকা, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩

ইশরাককে পদত্যাগ করালেই কি প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতার সমাধান: হাসনাত

২০২৬ অক্টোবর ১৯ ১৬:০৭:৪০

ইশরাককে পদত্যাগ করালেই কি প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতার সমাধান: হাসনাত

নিজস্ব প্রতিবেদক: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের ঘোষণার পর সরকারের কাছে জবাব চেয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। একজন প্রতিমন্ত্রীকে কেন নিজেই অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে রাস্তায় নামতে হলো, সেই প্রশ্ন তুলে তিনি মাদক নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে হাসনাত লেখেন, প্রতিমন্ত্রী হয়েও ইশরাক হোসেনকে কেন নিজে অস্ত্র হাতে মাদকের বিরুদ্ধে মাঠে নামতে হলো, তা সরকারের কাছে জানতে চাওয়া জরুরি। এ ঘটনা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে। মাদক নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো যথাযথভাবে কাজ করলে একজন প্রতিমন্ত্রীকে সরাসরি এভাবে মাঠে নামতে হতো কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

হাসনাতের প্রশ্ন, এ পরিস্থিতির দায় কি শুধু ইশরাক হোসেনের, নাকি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যর্থতাও এর জন্য দায়ী? রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো মাদক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে না পারলে সেই ব্যর্থতার দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ওপরও বর্তায় বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, একজন প্রতিমন্ত্রীকে সরিয়ে দেওয়াকে সমস্যার সমাধান হিসেবে দেখলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি কীভাবে নিশ্চিত হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন থেকে যায়। প্রতিষ্ঠানগুলো দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করলে একজন প্রতিমন্ত্রীকে কেন নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়ার মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে? একই ধরনের প্রশ্ন ওঠে যখন প্রধানমন্ত্রীকে হাসপাতালে গিয়ে টয়লেট পরিদর্শন করতে হয়।

হাসনাত আরও বলেন, হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও সেবার মান বজায় রাখার জন্য নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং তদারকির ব্যবস্থা রয়েছে। এসব ব্যবস্থা ঠিকভাবে কাজ করলে প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি গিয়ে বিষয়গুলো পরিদর্শন করতে হতো কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। বিষয়টি শুধু একটি হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা কার্যকরভাবে কাজ করছে, সেটিও এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

এনসিপির এই নেতা লেখেন, রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীকে নিজে তদারকি করতে হলে এবং মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রতিমন্ত্রীকে সরাসরি রাস্তায় নামতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এভাবে চলতে থাকলে এবং একপর্যায়ে পরিস্থিতির প্রতিবাদে জনগণ রাস্তায় নেমে এলে সরকার কী করবে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। তখন কাকে পদত্যাগ করিয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা করা হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন রাখেন হাসনাত।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, কাউকে পদ থেকে সরিয়ে সাময়িকভাবে সংকট সামাল দেওয়া সম্ভব হলেও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা দূর হয় না। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর করতে হলে তাদের সক্ষমতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ব্যর্থতার কারণ খুঁজে বের করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। তা না হলে একজনকে সরিয়ে দিয়ে সমস্যার মূল কারণ আড়াল করা ছাড়া কোনো অর্জন হবে না। দিনশেষে ঘের দখল, দুর্নীতি ও ঘুষের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদের ব্যর্থতার বলি হতে হবে জনাব ইশরাক হোসেনদের।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

রাজনীতি এর অন্যান্য সংবাদ