ঢাকা, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩
পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দিবেন ইশরাক, প্রস্তুত মঞ্চ
নিজস্ব প্রতিবেদক: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আসছেন ইশরাক হোসেন। এ জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে সংবাদ সম্মেলনকক্ষ। সেখানে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা উপস্থিত হয়েছেন। প্রেস ক্লাবের বাইরে জড়ো হয়েছেন ইশরাকের নেতা-কর্মীরাও।
এর আগে, সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে পদত্যাগের ঘোষণা দেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।
পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আজ দুপুর ২টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেব এবং সাংবাদিকদের মুখোমুখি হব, ইনশাআল্লাহ।’
ফেসবুকে কিছু মানুষের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে লেখালেখির বিষয়টিও পোস্টে উল্লেখ করেন ইশরাক। তিনি লেখেন, ‘ফেসবুকে কিছু সুশীল মানুষকে উল্লাসসূচক লেখালেখি করতে দেখলাম। আশা করি, ভবিষ্যতে কখনো আন্দোলন-সংগ্রামের প্রয়োজন হলে তারা জাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিদেশ থেকে দেশে এসে সেই আন্দোলনে যোগ দেবেন।’
নিজের ভবিষ্যৎ কর্মকাণ্ডের কথা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘এবার সংসদ সদস্য বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নয়, একজন বিএনপি কর্মী হিসেবে মাদকের বিরুদ্ধে শতগুণ বেশি উদ্দীপনা নিয়ে কাজ করব, ইনশাআল্লাহ। পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি আরও জোরদার হবে। দেশব্যাপী প্রজন্ম দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন জেলা সফর করতে পারব। মন্ত্রী নয়, মাদক নির্মূল! মাদক নির্মূল, মাদক নির্মূল!’পড়াশোনা যুক্তরাজ্যে, রাজনীতিতে বর্ণিল ক্যারিয়ার ইশরাকেরবিএনপির রাজনীতিতে পারিবারিক উত্তরাধিকার, যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষা, পুরান ঢাকায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদ নিয়ে দীর্ঘ আইনি লড়াই এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়—বিভিন্ন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে এগিয়েছে ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনের রাজনৈতিক জীবন। প্রয়াত বিএনপি নেতা ও অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে হিসেবে পরিচিতি পেলেও সময়ের সঙ্গে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান গড়ে তুলেছেন তিনি।
ইশরাক হোসেনের জন্ম ১৯৮৭ সালের ৫ এপ্রিল। তাঁর বাবা সাদেক হোসেন খোকা এবং মা ইসমত আরা। সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া ইশরাকের শৈশব ও কৈশোর কেটেছে রাজধানী ঢাকায়। ঢাকার ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্কলাস্টিকা থেকে ‘ও’ লেভেল ও ‘এ’ লেভেল শেষ করে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব হার্টফোর্ডশায়ারে ভর্তি হন তিনি। সেখানে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
২০১১ সালে পড়াশোনা শেষ করে কিছু সময় যুক্তরাজ্যে ছিলেন ইশরাক। এ সময় দেশটির বিভিন্ন স্থানীয় মোটরগাড়ি প্রতিষ্ঠানে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন তিনি। পরে দেশে ফিরে আসেন। বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল বাংলাভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন ইশরাক।প্রেসক্লাবের এই কক্ষেই হবে সংবাদ সম্মেলনইশরাক হোসেনের রাজনৈতিক পথচলায় তাঁর বাবা সাদেক হোসেন খোকার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বিএনপির এই নেতা সাবেক মন্ত্রী ও অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র ছিলেন। বাবার রাজনৈতিক আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েই ইশরাক সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন।
সাদেক হোসেন খোকার রাজনৈতিক জীবনের উল্লেখযোগ্য অধ্যায় শুরু হয় ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন দিয়ে। ওই নির্বাচনে ঢাকা-৭ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে পরাজিত করেন তিনি। পরে বিএনপি সরকারের ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন খোকা। ওই সময় খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের মৎস্যমন্ত্রী হন তিনি। এর আগে ও পরে ঢাকার রাজনীতিতে তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ছিল। ২০০২ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সাদেক হোসেন খোকা। তাঁর মৃত্যু বিএনপির জন্য বড় ক্ষতি হিসেবে বিবেচিত হয়। বাবার মৃত্যুর পর পুরান ঢাকার রাজনীতিতে ইশরাকের সক্রিয়তা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্য ধরে রেখে বিএনপির নগর রাজনীতিতে নিজের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করেন তিনি।
যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষা নেওয়ার সময় ইশরাক হোসেন বিএনপির ছাত্রসংগঠন ছাত্রদলের যুক্তরাজ্য শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম দলের আহ্বায়ক হন। বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।রাজনীতিতে ছাত্রজীবন থেকেই, হয়েছেন হামলা-মামলার শিকারছাত্রজীবন থেকেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ইশরাক শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নেন। এ সময় তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। নাশকতার মামলায় কারাগারেও যেতে হয়েছিল তাঁকে। জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর আবারও আন্দোলনে সক্রিয় হন। বিভিন্ন সময়ে পুলিশি হামলায় তাঁর আহত হওয়ার ঘটনাও আলোচনায় আসে।
বাবার মৃত্যুর পর পুরান ঢাকায় বিএনপির রাজনীতিতে ইশরাকের তৎপরতা বাড়ে। স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় কর্মসূচি ও আন্দোলনে অংশ নিয়ে তরুণ বিএনপি নেতা হিসেবে পরিচিতি পান তিনি। একপর্যায়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে বিএনপির প্রার্থী হন।ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদ নিয়ে আইনি লড়াই২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপসের বিপরীতে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ছিলেন ইশরাক হোসেন। নির্বাচনে চার লাখ ২৪ হাজার ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন তাপস। ইশরাক পান দুই লাখ ৩৬ হাজার ভোট।
নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তোলে বিএনপি। ইশরাকের অভিযোগ ছিল, পরিকল্পিতভাবে ফলাফল জালিয়াতি করে তাঁকে পরাজিত করা হয়েছে। এ নিয়ে নির্বাচনের ফলাফল ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। ফল ঘোষণার এক মাসের মাথায়, ২০২০ সালের ৩ মার্চ তা বাতিল চেয়ে মামলা করেন ইশরাক। নির্বাচনে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের গেজেট চ্যালেঞ্জ করেন তিনি। মামলায় শেখ ফজলে নূর তাপস, প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ আটজনকে বিবাদী করা হয়।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ ও নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. নুরুল ইসলাম ওই নির্বাচনের ফল বাতিল করে রায় দেন। একই রায়ে বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। শেখ ফজলে নূর তাপসের মেয়র নির্বাচিত হওয়ার বৈধতাও বাতিল করেন আদালত।
এরপর ইশরাককে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশের বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের পরামর্শ চেয়ে ২২ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন চিঠি দেয়। তবে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত পাওয়ার আগেই রবিবার রাতে গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। ২৭ এপ্রিল প্রকাশিত সংশোধিত গেজেটে শেখ ফজলে নূর তাপসের পরিবর্তে ইশরাক হোসেনকে নির্বাচিত মেয়র হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়। এর পর ১৯ আগস্ট স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে ঢাকার দুই সিটিসহ দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের মেয়রদের অপসারণ করে। অপসারিত হন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসও। পরে ওই পদে একজন প্রশাসক দায়িত্ব পালন করেন।
নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালের রায় ও নির্বাচন কমিশনের সংশোধিত গেজেট প্রকাশের পর ইশরাকের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। উপনির্বাচন না করে আদালতের রায় ও সংশোধিত গেজেটের ভিত্তিতে তাঁকে বিজয়ী ঘোষণা করায় কতদিন তিনি মেয়রের দায়িত্বে থাকতে পারবেন, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তবে মেয়র হিসেবে তাঁর দায়িত্ব পালনের বিষয়টি প্রশাসনিক ও আইনি আলোচনার মধ্যেই থেকে যায়।
ইমামুল
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- মাস্টারদা সূর্য সেন হল অ্যালামনাইয়ের নতুন কমিটি ঘোষণা, সভাপতি ডাবলু, সাধারণ সম্পাদক পলাশ
- সরকারি বাঙলা কলেজে উপবৃত্তি আবেদনে শিক্ষার্থীদের পাশে ছাত্রদলের নিরব
- ৬.৬ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৬ অক্টোবর)
- নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ৭০ শতাংশের ভিসা প্রত্যাখ্যান, বাড়ছে উদ্বেগ
- আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীতে ২২৮ পদে নিয়োগ
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সে ভর্তির আবেদন শুরু আজ
- ২৬ অক্টোবর থেকে কক্সবাজার যাবে মহানগর এক্সপ্রেস
- বিআইডব্লিউটিসি ও মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই
- সালাহউদ্দিন আহমেদের জানাজায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- ধর্ম নয়, নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার নিশ্চিত করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী
- এসএমসি এন্টারপ্রাইজে চাকরি, নিয়োগ পাবেন ৩০ জন
- সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃ/ত্যুদণ্ড কার্যকর
- এসএসসি-এইচএসসিতে ফেল করলে ফের পরীক্ষা, এরপর কারিগরি শিক্ষা
- হরমুজে জাহাজডুবি, সাগরে ভাসছে আইফোন