×

ঢাকা, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩

আগারগাঁওয়ে সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

২০২৬ অক্টোবর ১৮ ১৯:৫৬:৫৬

আগারগাঁওয়ে সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে আগারগাঁওয়ের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে বাংলাদেশ সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। নতুন স্থানে সচিবালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সরকারি দপ্তরগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় কর্মপরিসর বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

বৈঠক শেষে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

সরকার ২০২৯ সালের মধ্যে শেরেবাংলা নগরের নতুন সচিবালয়ে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগোচ্ছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ।

সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, সচিবালয় স্থানান্তর প্রকল্পের প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৪০৯ কোটি ৪৪ লাখ ২৯ হাজার টাকা। চলতি বছরের নভেম্বর থেকে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

বর্তমান সচিবালয়ে যেসব সমস্যা

প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বর্তমানে বাংলাদেশ সচিবালয় ১৭.৫৭ একর জায়গাজুড়ে অবস্থিত। সেখানে মোট ১৩টি ভবন রয়েছে, যার মধ্যে ৮টি স্বাধীনতার আগে নির্মিত। পুরোনো ১, ২, ৩ ও ৮ নম্বর ভবনগুলো ১৯৩৭ থেকে ১৯৩৯ সালের মধ্যে এবং ৫ নম্বর ভবনটি ১৯৪৭ সালে নির্মাণ করা হয়। ফলে ভবনগুলো ভূমিকম্প সহনীয় করে তৈরি করা হয়নি।

ঢাকা শহর ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় হওয়ায় এসব ভবনে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কার্যক্রম পরিচালনা ঝুঁকিপূর্ণ বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ভবনগুলোতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবহারযোগ্য জায়গা না থাকায় স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। প্রয়োজনের তুলনায় ওয়াশ-ব্লকের সংখ্যাও কম। ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী এসব সুবিধা ব্যবহার করায় স্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

বর্তমান সচিবালয়ে মোট অফিস স্পেস প্রায় ১৮.৭৬ লাখ বর্গফুট। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত জায়গার চাহিদা পূরণ এবং সচিবালয় কমপাউন্ডের বাইরে থাকা বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের দপ্তরগুলোর স্থানসংকুলানের জন্য আরও প্রায় ১০ লাখ বর্গফুটের বেশি অফিস স্পেস প্রয়োজন বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

যেভাবে গড়ে উঠবে নতুন সচিবালয়

প্রস্তাব অনুযায়ী, একনেক সভার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে লুই আই কান-এর মাস্টার প্ল্যান অনুসরণ করে ঢাকার শেরেবাংলা নগরের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে বাংলাদেশ সচিবালয় স্থাপনের জন্য স্থাপত্য অধিদপ্তর ধারণাগত স্থাপত্য নকশা তৈরি করেছে।

নকশা অনুসারে, শেরেবাংলা নগরের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠের প্রায় ৩১.৫৮ একর জায়গায় নতুন সচিবালয় নির্মাণ করা হবে। সেখানে মোট প্রায় ৩৩.১৬ লাখ বর্গফুট জায়গাসহ ১৪টি ১২ তলা ভবন থাকবে। ভবনগুলোর সঙ্গে থাকবে ৩টি বেজমেন্ট।

প্রস্তাবিত নকশায় ৩ হাজার ৮০০টি গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ২০০টি পার্কিংয়ের জায়গা থাকবে ভূ-উপরিস্থ অংশে। এ ছাড়া থাকবে একটি মসজিদ, ৩৫০ জন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন দুটি মাল্টিপারপাস হল, একটি ক্যাফেটেরিয়া ও একটি ডাকঘরসহ অন্যান্য সুবিধা।

প্রকল্প এলাকার প্রায় ৩০ শতাংশ জায়গা সবুজায়ন ও জলাধারের জন্য সংরক্ষণের পরিকল্পনা রাখা হয়েছে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৮ অক্টোবর)

আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৮ অক্টোবর)

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের বাজারে স্বর্ণ ও রুপার দাম কমানোর পর বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) নির্ধারিত মূল্যেই বিক্রি হচ্ছে এসব মূল্যবান... বিস্তারিত