ঢাকা, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩
২০ কোটি মানুষের স্বাস্থ্য তথ্যভাণ্ডার গড়তে জাতীয় হ্যাকাথন: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের প্রায় ২০ কোটি মানুষের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ, সুরক্ষা ও গবেষণায় ব্যবহারের পাশাপাশি ‘ই-হেলথ কার্ড’ বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে জাতীয় হ্যাকাথনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত।
স্বাস্থ্য খাতের ডিজিটাল রূপান্তরে তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও নতুন ধারণাকে কাজে লাগাতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অংশীদারত্বে এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ের তরুণ উদ্ভাবকদের মেধা তুলে আনার সুযোগ তৈরি হবে।
রোববার ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে হ্যাকাথনের বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।
হ্যাকাথন আয়োজনের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে এম এ মুহিত বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর ই-হেলথ কার্ড নিয়ে কাজ শুরুর সময় অনেকেই পৃথকভাবে বিভিন্ন ভালো ধারণা নিয়ে এসেছিলেন। তবে বিচ্ছিন্ন উদ্যোগগুলো স্বাস্থ্য খাতের একেকটি অংশকে আলাদা গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ রাখে, যা পরে সমন্বয় করা কঠিন হয়ে পড়ে। ডিজিটাল ব্যবস্থায় বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সংযোগ ও তথ্য আদান-প্রদান নিশ্চিত করতে সবাইকে একটি সমন্বিত ও স্বচ্ছ প্ল্যাটফর্মে আনার লক্ষ্যেই এই হ্যাকাথন আয়োজন করা হচ্ছে।
সমন্বিত স্বাস্থ্য তথ্যভাণ্ডারের সম্ভাবনা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রায় ২০ কোটি মানুষের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য নিয়ে একটি বিশাল তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার কথা ভাবা হচ্ছে। একজন নাগরিক যতবার চিকিৎসকের কাছে যাবেন, ডিসপেনসারি থেকে ওষুধ কিনবেন কিংবা পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করাবেন, প্রতিবারের চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি সেখানে নিয়মিত যুক্ত হতে থাকবে।
এই তথ্যভাণ্ডারের প্রতি বৈশ্বিক কোম্পানিগুলোরও আগ্রহ রয়েছে বলে জানান তিনি। তবে প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে দেশের সার্বভৌমত্ব, তথ্যের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা অক্ষুণ্ন রাখার ওপর গুরুত্ব দেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী।
হ্যাকাথনে অংশগ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে এম এ মুহিত বলেন, তরুণদের উদ্ভাবনী প্রতিভা যেন হারিয়ে না যায়, সে লক্ষ্যেই জাতীয় পর্যায়ে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী এক মাস এই হ্যাকাথনে অংশ নিতে নিবন্ধন করা যাবে।
নিবন্ধন ও বাছাইপর্ব শেষ হলে নির্বাচিত দলগুলোকে নিয়ে রাজধানী ঢাকায় তিন দিনব্যাপী নিবিড় প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বা ‘বুটক্যাম্প’ আয়োজন করা হবে। সেখানে দেশি ও আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা তরুণদের সরাসরি পরামর্শ দেবেন। এর মাধ্যমে তাঁদের প্রাথমিক ধারণাগুলোকে টেকসই ও কার্যকর উদ্যোগে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেন, দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতের বর্তমান বাজারের আনুমানিক আকার ১৪ বিলিয়ন ডলার। তবে নির্ভরযোগ্য তথ্যের অভাবে এই বাজারের সম্ভাবনা এখনো পুরোপুরি মূল্যায়ন করা সম্ভব হয়নি। স্বাস্থ্য খাত ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় এলে এবং নির্ভরযোগ্য তথ্যভাণ্ডার গড়ে উঠলে দেশি-বিদেশি বড় বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার সুযোগ তৈরি হবে।
হ্যাকাথনের গুরুত্ব তুলে ধরে চৌধুরী আশিক বলেন, সরকারের উচ্চপর্যায়ে তদবির ও স্বজনপ্রীতির সুযোগ বন্ধ করে সবার জন্য সমান সুযোগ এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই প্রক্রিয়ায় ঢাকার বাইরের প্রত্যন্ত অঞ্চলে থাকা কোনো তরুণের সেরা উদ্ভাবনী ধারণাও সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর সুযোগ পাবে।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- মাস্টারদা সূর্য সেন হল অ্যালামনাইয়ের নতুন কমিটি ঘোষণা, সভাপতি ডাবলু, সাধারণ সম্পাদক পলাশ
- সরকারি বাঙলা কলেজে উপবৃত্তি আবেদনে শিক্ষার্থীদের পাশে ছাত্রদলের নিরব
- ৬.৬ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল
- নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ৭০ শতাংশের ভিসা প্রত্যাখ্যান, বাড়ছে উদ্বেগ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৬ অক্টোবর)
- বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডে ৭ ক্যাটাগরিতে ৩৮ পদে নিয়োগ
- আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীতে ২২৮ পদে নিয়োগ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১২ অক্টোবর)
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সে ভর্তির আবেদন শুরু আজ
- ২৬ অক্টোবর থেকে কক্সবাজার যাবে মহানগর এক্সপ্রেস
- বিআইডব্লিউটিসি ও মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই
- ভারতকে ৩ রানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ
- সালাহউদ্দিন আহমেদের জানাজায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সিরিজ জয় নিশ্চিত করল পাকিস্তান
- এসএমসি এন্টারপ্রাইজে চাকরি, নিয়োগ পাবেন ৩০ জন