ঢাকা, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩
লালনের মূল শিক্ষা সমতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ: সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক: ধর্মীয় উগ্রতা ও ভেদাভেদ দূর করতে মানুষের মধ্যে সমতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের চর্চা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। তিনি বলেছেন, ধর্ম পালন করা বা না করা প্রত্যেকের নিজস্ব স্বাধীনতা। কাউকে আঘাত বা হেয় না করে সবার মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সমতার চর্চা করাই লালনের মূল শিক্ষা।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত স্মরণানুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনায় ধর্মকেন্দ্রিক উগ্রতার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে লালন সাঁইয়ের দর্শন ও মানবতাবোধের চর্চা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের মধ্যে সমতা ও একে অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে লালনের দর্শন ধারণ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. হারুন-অর-রশীদ। তিনি বলেন, লালনের জীবন ও সাধনা এমন একটি মানবিক সমাজের স্বপ্ন দেখায়, যেখানে মানুষের প্রধান পরিচয় সে মানুষ। লালন শিখিয়েছেন, মানুষের মর্যাদা তার জন্মপরিচয়ের ওপর নির্ভর করে না; বরং মানবিকতা, বিবেক ও কর্মের মধ্যেই তার পরিচয় নিহিত। তাঁর দর্শন কেবল সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ নয়, সামাজিক ও নৈতিক পুনর্জাগরণেরও গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন বেগম। মুখ্য আলোচক ছিলেন শিল্পী ও গবেষক অধ্যাপক ড. আহমেদ শাকিল হাসমী। এ ছাড়া বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল এবং জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) সদস্য সচিব জাকির হোসেন রোকন।
আলোচনা পর্বের পর দেশের বিশিষ্ট শিল্পীরা লালনসংগীত পরিবেশন করেন। শুরুতে লতিফ শাহ গেয়ে শোনান লালনের ‘দৈন্য গান’। এরপর নাসরিন সুলতানা বিউটি পরিবেশন করেন ‘কৃষ্ণ প্রেমে পোড়া দেহ’। আলেয়া বেগম লালনসংগীত পরিবেশন করেন। বিমান চন্দ্র বিশ্বাস গেয়ে শোনান ‘আমি অপার হয়ে বসে আছি’ এবং মৌসুমী ইকবাল পরিবেশন করেন ‘হেলায় হেলায় দিন বয়ে যায়’।এ ছাড়া কাঙ্গালিনী সুফিয়া পরিবেশন করেন ‘দেখা দিয়েও হে রাসুল’। কানিজ খন্দকার মিতু গেয়ে শোনান ‘ঘরে কেবা জাগে কেবা ঘুমায়’। সুমন রায়, পাখি বাউলিয়ানা ও সুলতানা জামান জোছনাও অনুষ্ঠানে লালনসংগীত পরিবেশন করেন।
অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির কণ্ঠশিল্পীরা সম্মিলিতভাবে ‘ধন্য ধন্য বলি তারে’, ‘আমার ঘর খানায় কে বিরাজ করে’ ও ‘মিলন হবে কত দিনে’ গান পরিবেশন করেন।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- সরকারি বাঙলা কলেজে উপবৃত্তি আবেদনে শিক্ষার্থীদের পাশে ছাত্রদলের নিরব
- ৬.৬ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল
- নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ৭০ শতাংশের ভিসা প্রত্যাখ্যান, বাড়ছে উদ্বেগ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১৬ অক্টোবর)
- বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডে ৭ ক্যাটাগরিতে ৩৮ পদে নিয়োগ
- আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীতে ২২৮ পদে নিয়োগ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১২ অক্টোবর)
- জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সে ভর্তির আবেদন শুরু আজ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১১ অক্টোবর)
- ২৬ অক্টোবর থেকে কক্সবাজার যাবে মহানগর এক্সপ্রেস
- আড়ংয়ে পার্টটাইম চাকরির সুযোগ, থাকছে যেসব সুযোগ-সুবিধা
- ভারতকে ৩ রানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ
- এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারীর সাক্ষাৎ
- বিআইডব্লিউটিসি ও মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই
- দেওয়ানি বিরোধ নিষ্পত্তির আগে অর্পিত সম্পত্তি অবমুক্ত নয়: হাইকোর্ট