×

ঢাকা, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

বাংলাদেশের আন্দোলন থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েছেন ভারতের তরুণেরা: নেহা

২০২৬ অক্টোবর ১৪ ১৭:৩৩:০৬

বাংলাদেশের আন্দোলন থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েছেন ভারতের তরুণেরা: নেহা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দুই বছর আগে বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন ভারতের তরুণদের অনুপ্রাণিত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) সর্বভারতীয় সভাপতি নেহা বোরার। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও ভারতের তরুণদের ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের ফেসবুক পেজে নেহা বোরারের একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করা হয়। এতে সংগঠনটির ষষ্ঠ কেন্দ্রীয় সম্মেলনে শুভেচ্ছা ও সংহতি জানাতে দেখা যায় তাঁকে।

ভিডিও বার্তায় নেহা বলেন, ‘আপনাদের প্রতি লাল সালাম। আমরা জানি, আজ ভারত জুড়ে জেন জি তরুণদের যে আন্দোলন দেখতে পাচ্ছি, তার শুরুটা হয়েছিল বাংলাদেশেই। আমাদের পথ দেখানো এবং ভারতের তরুণদের প্রতি সংহতি জানানোর জন্য আপনাদের অভিনন্দন জানাই।’

বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থান জেন জি আন্দোলন হিসেবে পরিচিতি পায়। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর নেপালেও জেন জি আন্দোলনের মুখে সরকারের পতন হয়।বাংলাদেশের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের কথা উল্লেখ করে নেহা বলেন, ‘বাংলাদেশে যে আন্দোলন হয়েছিল, তা ছিল গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। আজ ভারতের তরুণেরাও গণতন্ত্র এবং ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে অংশ নিচ্ছেন এবং নেতৃত্ব দিচ্ছেন।’

বাংলাদেশে ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে তরুণদের আন্দোলনের প্রতিও সংহতি জানান তিনি। নেহা বলেন, ‘আমরা জানি, আপনাদের দেশে ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে আপনাদের যে লড়াই, একই লড়াই আজ এই দেশের জেন জি ও তরুণেরা করছেন।’

বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন নেহা। তাঁর বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রমবর্ধমান হুমকি ও আক্রমণের বিষয়টি উঠে আসে।

ভারতের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশটির সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় শিক্ষার্থীদের অধিকার খর্ব করা হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষাকে বেসরকারীকরণের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। স্বাধীন ও যুক্তিনির্ভর চিন্তার পথও রুদ্ধ করার অভিযোগ করেন তিনি।

নেহার ভাষ্য, বাংলাদেশেও যুক্তিনির্ভর চিন্তার চর্চা বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের তরুণদের ওপর রাজনৈতিক প্রচার চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

দুই দেশের তরুণদের একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে নেহা বলেন, ‘আমরা আপনাদের প্রতি সংহতি জানাই। আপনাদের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা নিই, আপনাদের নেতৃত্বে পরিচালিত আন্দোলন থেকে শিক্ষা নিয়েছি। আশা করি, বাংলাদেশ ও ভারতের তরুণেরা একসঙ্গে লড়াই করবেন। আর তা একটি উন্নত দক্ষিণ এশিয়া, বিশেষ করে আরও সুন্দর পৃথিবী গড়তে।’

বিজেপি-সমর্থক পরিবারে বেড়ে ওঠা নেহা ভারতের নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনায় সরব। বর্তমানে তিনি দক্ষিণ এশিয়ায় আলোচিত মুখ।

গত জুন-জুলাইয়ে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট (নিট) ঘিরে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার পর ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। ওই সময় পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক ও ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রধান অভিজিৎ দীপকের সঙ্গে অনশন কর্মসূচিতে অংশ নেন নেহা।

টানা ২৩ দিনের অনশন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) এই বামপন্থী ছাত্রনেত্রী ভারতজুড়ে পরিচিতি পান। কয়েক মাসের ব্যবধানে আবারও রাজপথে নামেন তিনি। ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে গত ২ ও ৩ অক্টোবর দিল্লিতে বিক্ষোভে অংশ নিয়ে পুলিশের হাতে আটক হন নেহা।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত