×

ঢাকা, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে ৭০ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ

২০২৬ অক্টোবর ১২ ২১:০৮:৪৭

ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে ৭০ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: লক্ষ্মীপুরে ২০১৮ সালে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে আটক করে নির্যাতন, বিদ্যুৎ শক দেওয়া এবং ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে ৭০ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ তুলেছেন সাবেক ছাত্রনেতা মো. আব্দুর রহমান বিপ্লব। এ ঘটনায় তৎকালীন লক্ষ্মীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লোকমান হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিচারের আওতায় আনা ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে লক্ষ্মীপুর প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন আব্দুর রহমান বিপ্লব। তিনি লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক ক্যাম্পাস সেক্রেটারি ছিলেন বলে জানান।

লিখিত বক্তব্যে বিপ্লব বলেন, ২০১৮ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সকালে তৎকালীন ওসি লোকমান হোসেনের নির্দেশে পুলিশ লক্ষ্মীপুর শহরের উত্তর তেমুহনী এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করে। এ সময় তাঁর চোখ বেঁধে হাতকড়া পরানো হয়। পরে থানায় নিয়ে তাঁর ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বিপ্লবের দাবি, ২০১৯ সালের ৫ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাঁকে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে তাঁকে বিদ্যুৎ শক দেওয়া হয়। পরে গভীর রাতে পুলিশ সদস্যরা তাঁকে গাড়িতে তুলে রামগতি উপজেলার চর আলেকজান্ডার বেড়িবাঁধে নিয়ে যান। সেখানে মারধরের পাশাপাশি হত্যার ভয় দেখিয়ে তাঁর শেষ ইচ্ছার কথা জানতে চাওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরে তাঁকে রামগতি থানায় নিয়ে নির্যাতন করা হয় এবং শরীরে ইনজেকশন পুশ করা হয়। এরপর লক্ষ্মীপুর সদর থানায় নেওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। একপর্যায়ে তাঁকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বিপ্লব বলেন, তাঁকে ক্রসফায়ার থেকে বাঁচাতে এক কোটি টাকা দিতে হবে বলে তাঁর বাবার কাছে দাবি করেন তৎকালীন ওসি লোকমান হোসেন। পরে দালালদের মাধ্যমে ৭০ লাখ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তাঁর দাবি, সকাল ১০টার আগেই তাঁর বাবার কাছ থেকে ওই টাকা নেওয়া হয়। এ সময় তাঁর বাবা, মা ও নিকটাত্মীয়রা উপস্থিত ছিলেন।

বিপ্লব আরও জানান, শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সাত থেকে আটটি মামলায় আসামি দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। এর মধ্যে দুটি মামলায় তাঁকে ১০ দিন করে মোট ২০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়েছিল। তবে আদালত সেই আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সাবেক এই ছাত্রনেতার অভিযোগ, নির্যাতন ও মিথ্যা মামলার কারণে তিনি শারীরিক, মানসিক ও আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তাঁর পরিবারেরও কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে বিপ্লবসহ কয়েকজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, তৎকালীন সময়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে বিভিন্ন সংগঠনের একাধিক ছাত্রনেতা ও কর্মী নির্যাতন, চাঁদাবাজি ও হয়রানির শিকার হয়েছিলেন। তাঁদের দাবি, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা চাকরিতে বহাল রয়েছেন।

এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন ওসি লোকমান হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের, তাঁদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন আব্দুর রহমান বিপ্লব ও অন্য ভুক্তভোগীরা। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত