×

ঢাকা, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

৪০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনেও থামেনি দিল্লির বিক্ষোভ

২০২৬ অক্টোবর ১১ ১৮:৪৬:১৯

৪০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনেও থামেনি দিল্লির বিক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: দিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা, হাজার হাজার মানুষকে আটক এবং মেট্রো চলাচলে বিধিনিষেধ দিয়েও বিক্ষোভ সামাল দিতে পারেনি কেন্দ্রীয় সরকার। যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলন ঘিরে প্রায় ৪০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হলেও সরকারের অস্বস্তি আড়াল করা যায়নি।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শনিবারের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ভারতের রাজধানী। রোববার আন্দোলনের তিন প্রধান মুখ অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা মুক্তি পেয়েছেন। এদিকে, সুপ্রিম কোর্টের কঠোর অবস্থান কেন্দ্রের নিরাপত্তাব্যবস্থা ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করেই এই আন্দোলনের সূচনা। বিরোধীদের অভিযোগ, এ প্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। এতে নাগরিকদের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেছে সিজেপি। তবে নির্বাচন কমিশন অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। শনিবার যন্তর মন্তরে কর্মসূচির অনুমতি না দেওয়ার পর দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় পুলিশি বাধা, ব্যারিকেড ও ধরপাকড় শুরু হয়। প্রায় ৪০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল এবং আটক ব্যক্তির সংখ্যা ৭ হাজার ছাড়িয়ে যায়।

দিল্লিতে বিমান অবতরণের পরই আন্দোলনের তিন প্রধান মুখ অভিজিৎ দিপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন আন্দোলনকারীরা। রোববার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত এক বছর শান্তি বজায় রাখার শর্তে তাঁদের মুক্তির নির্দেশ দেন। তবে মুক্তির পরও আন্দোলন থেকে সরে আসার কোনো ইঙ্গিত দেয়নি সিজেপি। দলটির বক্তব্য, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের পদক্ষেপ নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ওঠে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপের পর। রোববারের শুনানিতে শীর্ষ আদালত জানিয়ে দেয়, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের নামে কাউকে বেআইনিভাবে আটক করা যাবে না। মেট্রো ও রেল পরিষেবা স্বাভাবিক রাখা, ইন্টারনেট চালু করা এবং সাধারণ মানুষের চলাচলের পথে অপ্রয়োজনীয় বাধা সরানোর নির্দেশও দেয় আদালত।

দিল্লির ৩০৩টি মেট্রো স্টেশনের মধ্যে ৪৫টি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে আদালত। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জবাব চাওয়া হয়েছে। ফলে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে রাজধানীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করার সিদ্ধান্ত এখন বিচারবিভাগীয় পর্যালোচনার মুখে পড়েছে।

দিল্লির বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছে বিক্ষোভের প্রভাব। মুম্বাইয়ের আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে আন্দোলনের সমর্থনে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ায় অভিনেতা ইমরান খানসহ একাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। বেঙ্গালুরুও প্রতিবাদ কর্মসূচির সাক্ষী হয়েছে। দিল্লিতে চার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, পিনারাই বিজয়ন ও মানিক সরকারকে আটক করার ঘটনায় বিরোধীদের ক্ষোভ আরও বেড়েছে। পরে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

কেন্দ্রীয় সরকারের পদক্ষেপের সমালোচনা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আন্দোলন দমনের রাজনীতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। অরবিন্দ কেজরিওয়ালও মোদি সরকারের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক প্রতিবাদে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী তরুণদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, দেশের যুবকদের নিয়ে তিনি গর্বিত এবং বিরোধীরা তাঁদের পাশে রয়েছে।

কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেও বিরোধীদের বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রতিবাদের প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে, অভিজিৎ দীপকে ও তাঁর সহযোগীরা জানিয়েছেন, আটক কিংবা ভয় দেখিয়ে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না। আটক হওয়ার পর পুলিশের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন ধ্রুব রাঠিও।

সিজেপির সংগঠক অজিঙ্কা শিন্ডে জানিয়েছেন, বাধা সত্ত্বেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। ফলে মোদি সরকারের সামনে এখন চ্যালেঞ্জ কেবল একটি বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে রাখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ভোটার তালিকা, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নাগরিকের প্রতিবাদের অধিকার ও প্রশাসনের জবাবদিহির মতো একাধিক বিষয় সামনে এসেছে। প্রায় ৪০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করেও যে রাজনৈতিক অসন্তোষ পুরোপুরি থামানো যায়নি, তা স্পষ্ট। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর কেন্দ্রকে এখন নিরাপত্তার যুক্তির পাশাপাশি নাগরিক অধিকার রক্ষার বিষয়েও জবাব দিতে হবে।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত