×

ঢাকা, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

বোরকা-নিকাব নিষিদ্ধ করল ইতালি

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৫ ১০:১০:২৭

বোরকা-নিকাব নিষিদ্ধ করল ইতালি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইতালির শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বোরকা ও নিকাবের মতো মুখ ঢাকা পোশাক নিষিদ্ধ করেছে জর্জিয়া মেলোনির সরকার। একই সঙ্গে যেসব শিক্ষার্থী ইতালীয় ভাষায় পর্যাপ্ত দক্ষ নয়, তাদের একটি শ্রেণিতে সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ রাখার বিধান করা হয়েছে। নতুন অধ্যাদেশে নিয়ম ভঙ্গের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১ হাজার ইউরো জরিমানার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) মেলোনির রাজনৈতিক দল ‘ব্রাদার্স অব ইতালি’ (এফডিআই)-এর যুব সম্মেলনে প্রথম এই পরিকল্পনার কথা প্রকাশ করা হয়। পরে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে অধ্যাদেশটি অনুমোদন দেওয়া হয়। জরুরি অধ্যাদেশ হওয়ায় এটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে। তবে আইনে পরিণত করতে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে ইতালীয় পার্লামেন্টের অনুমোদন প্রয়োজন। একই সঙ্গে দেশটির প্রেসিডেন্ট সেরজিও মাত্তারেলার স্বাক্ষরও প্রয়োজন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী মেলোনি এই সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নেন। তিনি বলেন, ইতালীয় ভাষা শেখার সুযোগ তৈরি করা এবং স্কুলে বোরকা ও নিকাব বন্ধের পদক্ষেপগুলো ‘সাধারণ বুদ্ধিসম্পন্ন’ এবং ঐক্যের প্রতীক। তার ভাষ্য, ইতালি এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা বজায় রাখতে চায়, যেখানে নিয়মের সঙ্গে আপস না করেই বিদেশি শিক্ষার্থীদের মূলধারায় একীভূত করা হবে।

নতুন বিধান অনুযায়ী, পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব নয় এমনভাবে মুখ ঢেকে কোনো শিক্ষার্থী বা ব্যক্তি স্কুলের কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবে না। অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে নিয়ম ভঙ্গের জরিমানা অভিভাবককে দিতে হবে। এছাড়া যেসব পরিবারের ভাষাগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে এবং যার কারণে শিক্ষার্থীর একীভূত হওয়া বা পড়াশোনায় সমস্যা তৈরি হতে পারে, তাদের বিনামূল্যে ইতালীয় ভাষার সরকারি কোর্সে অংশ নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

তবে সরকারের এই উদ্যোগ নিয়ে রাজনৈতিক বিরোধী দল ও শিক্ষক সংগঠনগুলোর সমালোচনা রয়েছে। বিরোধী বামপন্থী ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রধান এলি শ্লেইন এটিকে ইতালির শিক্ষা ব্যবস্থার প্রকৃত সমস্যা আড়াল করার চেষ্টা এবং ‘লজ্জাজনক ও ভাবাদর্শগত চটকদার’ উদ্যোগ বলে মন্তব্য করেছেন। পাশাপাশি, মেলোনি সরকারের সঙ্গে কট্টর ডানপন্থী দলগুলোর ভোট রাজনীতির প্রতিযোগিতার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

ইতালির শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির মোট স্কুল শিক্ষার্থীর ১১ দশমিক ২ থেকে ১১ দশমিক ৬ শতাংশ বিদেশি নাগরিক। আর ৩০ শতাংশের বেশি বিদেশি শিক্ষার্থী রয়েছে এমন শ্রেণিকক্ষের সংখ্যা মোট শ্রেণিকক্ষের ৭ দশমিক ৬ শতাংশ।

ইতালির সরকার বলছে, নতুন বিধানের লক্ষ্য বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভাষাগত ও সামাজিক একীভূতকরণ সহজ করা এবং শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত ঘনত্ব এড়ানো। তবে এই উদ্যোগ নিয়ে রাজনৈতিক দল, শিক্ষক সংগঠন ও শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত