ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩
তৃণমূলের নাম-প্রতীক ফ্রিজ করল ভারতের নির্বাচন কমিশন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রচলিত ‘জোড়াফুল’ প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না দলটির দুই প্রতিদ্বন্দ্বী শিবির। একই সঙ্গে ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নামও ব্যবহারের ওপর অন্তর্বর্তী নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। ফলে আগামী ৬ অক্টোবরের উপনির্বাচনে মমতা ব্যানার্জি ও ঋতব্রত ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন শিবিরকে পৃথক নাম ও প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে।
১৯৯৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার পর থেকেই জোড়াফুল প্রতীকটি দলটির রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। দলটির পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে বলা হয়েছে, মমতা ব্যানার্জি নিজেই এই প্রতীকের নকশা করেছিলেন। তবে সম্প্রতি এই প্রতীকের নকশা নিয়ে ভিন্ন দাবিও সামনে এসেছে। ফলে প্রতীকটি নিয়ে বিতর্ক এখন শুধু নির্বাচনি চিহ্নের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, দলের ঐতিহ্য ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের প্রশ্নও এর সঙ্গে জড়িয়ে গেছে।
বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসে। মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন শিবির এবং ঋতব্রত ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী—দুটিই নিজেদের প্রকৃত তৃণমূল হিসেবে দাবি করে। দলীয় নাম, প্রতীক, সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ এবং সম্পদের মালিকানা নিয়েও দুপক্ষ নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়। কমিশন দুপক্ষের বক্তব্য শোনার পাশাপাশি বিভিন্ন নথি চেয়েছে।
নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের সময়সীমা সামনে থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। ১৬ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল। দুই শিবিরই নিজেদের প্রার্থী দিয়েছে। নন্দীগ্রামে মমতা শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে এবং ঋতব্রত শিবিরের প্রার্থী মহম্মদ এহতেশামুল হক। রেজিনগরে মমতা শিবিরের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী এবং ঋতব্রত শিবিরের প্রার্থী শেখ সফিউজ্জামান। এখন তাদের পৃথক নাম ও প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিতে হবে।
কমিশনের অন্তর্বর্তী নির্দেশ অনুযায়ী, দুই পক্ষকেই বিকল্প নাম ও প্রতীকের তিনটি করে পছন্দ জানাতে হবে। কমিশনের তালিকাভুক্ত মুক্ত প্রতীক থেকে তাদের জন্য আলাদা প্রতীক বরাদ্দ করা হবে। এই ব্যবস্থা আপাতত উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে কার্যকর থাকবে; দলীয় নাম ও প্রতীকের মালিকানা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পরবর্তী প্রক্রিয়ায় নেওয়া হবে।
নির্বাচন কমিশনের এই অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তের ফলে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনে তৃণমূলের দুই শিবিরকে নতুন পরিচয় নিয়ে মাঠে নামতে হচ্ছে। দলীয় নাম, প্রতীক ও সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলমান বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই অবস্থাই বহাল থাকবে।
ইএইচপি
পাঠকের মতামত:
সর্বোচ্চ পঠিত
- সরকারি বাঙলা কলেজে উপবৃত্তি আবেদনে শিক্ষার্থীদের পাশে ছাত্রদলের নিরব
- আধুনিক প্রযুক্তিতে শিল্প এগিয়ে নিতে হবে: রিজভী
- এস আলমের কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল
- প্রবাসের ঠিকানা বদলায় শিকড়ের পরিচয় নয়
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১১ অক্টোবর)
- বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডে ৭ ক্যাটাগরিতে ৩৮ পদে নিয়োগ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১২ অক্টোবর)
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (১০ অক্টোবর)
- বাতিল পরীক্ষার নতুন সূচি দিল যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর
- আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীতে ২২৮ পদে নিয়োগ
- বায়তুল মোকাররমে খতিবের অপসারণের অভিযোগ ঘিরে বিক্ষোভ
- আজকের বাজারে স্বর্ণের দাম (৯ অক্টোবর)
- ঢাবির ছাত্রী হলে পুরুষ কর্মীদের অবাধ যাতায়াত, বাড়ছে অস্বস্তি
- জেনে নিন হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে আয়ের ১০টি উপায়
- দেওয়ানি বিরোধ নিষ্পত্তির আগে অর্পিত সম্পত্তি অবমুক্ত নয়: হাইকোর্ট