×

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩

জনগণের কাছে বিশুদ্ধ পানি পৌঁছে দেওয়া সরকারের দায়িত্ব: অর্থমন্ত্রী

২০২৬ সেপ্টেম্বর ০৪ ১৬:৪০:৫১

জনগণের কাছে বিশুদ্ধ পানি পৌঁছে দেওয়া সরকারের দায়িত্ব: অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম মহানগরীতে বিশুদ্ধ পানির সংকট নিরসন ও জনদুর্ভোগ লাঘবে নতুন মডেলে কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। নগরীর পতেঙ্গার ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে পাইলট প্রকল্প হিসেবে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে পানি সংকট কেটে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে নগরীর হোটেল রেডিসন ব্লুর একটি হলরুমে সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর পানি সরবরাহ সেবার মান বাড়াতে নতুন সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) মডেল প্রতিষ্ঠা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

চুক্তির আওতায় ম্যাক্স ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ ও ম্যাক্স সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে চট্টগ্রাম ওয়াসা। প্রতিষ্ঠান তিনটির মধ্যে তিন বছর মেয়াদি এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন (বাণিজ্য ও উন্নয়ন বিভাগের প্রধান) ইয়ান ভ্যান ডার লিন্ডেনের উপস্থিতিতে সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হয়। চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম, ম্যাক্স ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. এটিএম তারিকুল ইসলাম এবং ম্যাক্স সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইয়ামিন ফারুক নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এতে সই করেন। নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের পানি ও জলবায়ুবিষয়ক প্রথম সচিব ইজে ক্রুজেন সমঝোতা স্মারকের সাক্ষী ছিলেন। এ উদ্যোগে নেদারল্যান্ডস দূতাবাস আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে।

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় পরিষ্কার ও বিশুদ্ধ খাবার পানি পৌঁছে দেওয়া সরকারের দায়িত্ব। এর অংশ হিসেবে নগরীর প্রান্তিক পর্যায়ে উত্তর পতেঙ্গা ও দক্ষিণ পতেঙ্গায় নতুন একটি পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণে সরকার বদ্ধপরিকর হলেও শুধু সরকারের পক্ষে সবকিছু করা সম্ভব নয়। এ কারণে অংশীদারত্ব গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাত ও এনজিওদের সহযোগিতায় পিপিপি মডেলে সরকারি সেবা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এই অংশীদারত্বের মাধ্যমে গড়ে তোলা মডেল দীর্ঘমেয়াদি করার পাশাপাশি এর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

চট্টগ্রামের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার বিষয়েও গুরুত্ব দেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিশুদ্ধ পানির পাশাপাশি বর্ষাকালে চট্টগ্রামের পানি নিষ্কাশনের সমস্যাও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

চট্টগ্রাম ওয়াসার কর্মকর্তারা জানান, চুক্তির আওতায় তিনটি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের জন্য একটি উদ্ভাবনী সরকারি-বেসরকারি পানি সরবরাহ মডেল অনুসন্ধান ও পরীক্ষা করবে। এর শুরু হবে সিটি করপোরেশনের ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের পানির চাহিদা নিরূপণ ও পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে। চট্টগ্রাম ওয়াসা, ম্যাক্স ফাউন্ডেশন ও ম্যাক্স সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের মধ্যে এটিই এ ধরনের প্রথম আনুষ্ঠানিক সহযোগিতা।

চলতি বছরের মে মাসে ম্যাক্স ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ ও ম্যাক্স সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড (ম্যাক্স ট্যাপওয়াটার) পরিচালিত একটি সমীক্ষার পর এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়।

সমীক্ষায় দেখা যায়, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের ১ লাখ ৬৪ হাজার ৯৯ জন বাসিন্দার নিরাপদ খাবার পানি পাওয়ার সুযোগ সীমিত। ওই দুটি ওয়ার্ডের মাত্র ২০ থেকে ৪০ শতাংশ বাড়িতে চট্টগ্রাম ওয়াসার পাইপলাইন নেটওয়ার্ক পৌঁছেছে।

সমীক্ষা অনুযায়ী, দুটি ওয়ার্ডের অধিকাংশ বাসিন্দা বর্তমানে এলাকায় কার্যক্রম পরিচালনাকারী ৮৫ থেকে ১১০টি বেসরকারি ভেন্ডরের কাছ থেকে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ লিটার পানি কেনেন। এ জন্য তাদের ব্যয় হয় ২৫ থেকে ৫০ টাকা। এছাড়া এলাকার ভূগর্ভস্থ পানি অত্যন্ত লবণাক্ত। পরীক্ষায় এর লবণাক্ততার মাত্রা জাতীয় নিরাপদ সীমা ১ হাজার পিপিএমের বিপরীতে ৩ হাজার পিপিএম পর্যন্ত পাওয়া গেছে।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত