×

ঢাকা, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

সৃজনশীল শিল্পকে অর্থনীতির চালিকাশক্তি করতে চায় সরকার: অর্থমন্ত্রী

২০২৬ অক্টোবর ২৪ ২১:৩০:১৮

সৃজনশীল শিল্পকে অর্থনীতির চালিকাশক্তি করতে চায় সরকার: অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: সৃজনশীল শিল্পকে দেশের মূলধারার অর্থনীতির অংশ এবং বৈশ্বিক মঞ্চে বাংলাদেশের ‘সফট পাওয়ার’ বা সাংস্কৃতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায় সরকার। শিল্প-সংস্কৃতি, গ্রামীণ কারুশিল্প, সংগীত, চলচ্চিত্র ও থিয়েটারকে অর্থনৈতিক কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত করে জিডিপি প্রবৃদ্ধির নতুন চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ও বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্রিয়েটিভ ফুটপ্রিন্টস’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রথাগত অর্থনৈতিক চিন্তাধারায় শিল্প ও সংস্কৃতিকে সব সময় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পেছনে রাখা হয়েছে। বর্তমান সরকার সেই ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে সৃজনশীল অর্থনীতিকে দেশের অর্থনৈতিক আকাঙ্ক্ষা ও প্রবৃদ্ধির নতুন উপাদান হিসেবে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারের একার পক্ষে এত বড় উদ্যোগ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এ জন্য নীতি প্রণয়ন ও অর্থায়নের পাশাপাশি বেসরকারি খাত এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর (এনজিও) সঙ্গে শক্তিশালী অংশীদারত্ব গড়ে তোলা হবে। ইতিমধ্যে সরকার বাজেটে এ খাতের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল বরাদ্দ করেছে। বেসরকারি খাতও এতে বড় ধরনের অর্থায়নে এগিয়ে আসছে।

সৃজনশীল শিল্পের বিকাশে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশীয় কারুশিল্পী, চিত্রশিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন, নকশা তৈরি, ব্র্যান্ডিং এবং আন্তর্জাতিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম—আমাজন, ইবে ও আলিবাবার মাধ্যমে পণ্য বিপণনে সহায়তা দেওয়া হবে।

এর ফলে প্রান্তিক পর্যায়ের শিল্পী ও কারুশিল্পীদের তৈরি পণ্যের যথাযথ মূল্যায়ন ও বাণিজ্যিক ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এতে তাঁদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও বড় অবদান রাখবে।

বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে সংস্কৃতির গুরুত্ব তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, এটি শুধু শিল্প, কারুশিল্প বা ব্যবসার বিষয় নয়; বাংলাদেশের জন্য এটি একটি ‘সফট পাওয়ার’। সংগীত, থিয়েটার, চলচ্চিত্র ও হস্তশিল্পের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিসরে দেশের নিজস্ব অবস্থান আরও সুদৃঢ় করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

এ উদ্যোগের জন্য স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ও বেঙ্গল ফাউন্ডেশনকে ধন্যবাদ জানান অর্থমন্ত্রী। আগামী দিনে সরকারি-বেসরকারি যৌথ প্রচেষ্টায় দেশে একটি সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক বিপ্লব সাধিত হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের লিটু এবং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হক।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

জাতীয় এর অন্যান্য সংবাদ