×

ঢাকা, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩

সমুদ্রে ঢেউয়ের তোড়ে শিশু, রিল বানাতে ব্যস্ত দম্পতি

২০২৬ অক্টোবর ২১ ১২:২৬:৩৯

সমুদ্রে ঢেউয়ের তোড়ে শিশু, রিল বানাতে ব্যস্ত দম্পতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: সমুদ্রসৈকতে রিল তৈরিতে ব্যস্ত এক দম্পতির পাশে ঢেউয়ের তোড়ে পড়ে একটি শিশুর ছটফট করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে অনলাইনে। ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি দ্রুত এগিয়ে এসে শিশুটিকে পানি থেকে উদ্ধার করেন।

ভিডিওতে সমুদ্রসৈকতের তীর ধরে হাঁটতে দেখা যায় এক নারী ও পুরুষকে। তাঁরা মোবাইল ফোন বা সেলফি স্টিক দিয়ে নিজেদের ভিডিও ধারণ করছিলেন। এ সময় নারীকে শিশুটির হাত ধরে পানির কাছ দিয়ে হাঁটতে দেখা যায়। কিছুক্ষণ পর শিশুটি পিছলে বালুর ওপর পড়ে যায়। এরপর সাগরের ঢেউ তাকে এদিক-সেদিক ঠেলে দিতে থাকে।

এ সময় নারীকে একবার পেছনে তাকাতে দেখা গেলেও পরে তিনি আবার ক্যামেরার সামনে পোজ দিতে থাকেন। অন্যদিকে, পুরুষটি ভিডিও ধারণ অব্যাহত রাখেন। ভিডিও দেখে ধারণা করা হচ্ছে, রিল তৈরিতে ব্যস্ত থাকায় দম্পতি শিশুটির বিপদের বিষয়টি খেয়াল করেননি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মারিয়াম নামের এক ব্যবহারকারী ভিডিওটি শেয়ার করেন। তাঁর দাবি, স্বামীর সঙ্গে সমুদ্রসৈকতে বেড়াতে গিয়ে তিনি ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেছেন। মারিয়ামের অভিযোগ, দম্পতি রিল তৈরিতে এতটাই মগ্ন ছিলেন যে তাঁদের সন্তান বিপদে পড়লেও তাঁরা তা বুঝতে পারেননি। পরে এক পথচারী এগিয়ে এসে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। তা না হলে ঢেউয়ে শিশুটি ভেসে যেতে পারত বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট তৈরির প্রতি মানুষের ক্রমবর্ধমান আসক্তি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মারিয়াম। তাঁর প্রশ্ন, রিল তৈরি কি এতটাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে যে মানুষ নিজের সন্তানের নিরাপত্তার বিষয়টিও উপেক্ষা করছেন?

তবে ঘটনাটি ঠিক কোথায় ও কবে ঘটেছে, তা জানা যায়নি। ওই দম্পতির পরিচয়ও প্রকাশ করা হয়নি।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই শিশুটির প্রতি দম্পতির অসতর্কতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁদের মতে, ভিডিও ধারণের চেয়ে শিশুটির নিরাপত্তাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত ছিল।

ঘটনাটি জনসমাগমপূর্ণ স্থানে শিশুদের প্রতি অভিভাবকদের নজরদারি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট তৈরিতে অতিরিক্ত মনোযোগের ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘কোনো রিল বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মুহূর্তই একটি শিশুর জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলার মতো মূল্যবান নয়।’

আরেকজন লিখেছেন, ‘একটি রিল মাত্র কয়েক মিনিট স্থায়ী হয়, কিন্তু একটি শিশুর জীবনের কোনো দ্বিতীয় সুযোগ নেই। সৌভাগ্য যে ওই ভাই ঘটনাটি দেখতে পেয়েছিলেন। শিশুদের প্রতি এমন অবহেলা কোনোভাবেই হওয়া উচিত নয়।’

তবে কেউ কেউ ভিডিওটিকে ভুয়া এবং ভিউ পাওয়ার উদ্দেশ্যে সাজানো বলেও দাবি করেছেন। এনডিটিভি জানিয়েছে, ভিডিওটির সত্যতা কিংবা ঘটনার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি তারা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

ইমামুল

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত

জাতীয় এর অন্যান্য সংবাদ