ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন তদন্ত তালিকায় বাংলাদেশ ও ভারত

২০২৬ মার্চ ১২ ১২:৫৪:৫৫

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন তদন্ত তালিকায় বাংলাদেশ ও ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:বিশ্বের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার দেশের বিরুদ্ধে নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ার দুই দেশ বাংলাদেশ ও ভারতসহ আরও বেশ কয়েকটি দেশ রয়েছে। মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাতিল করার পরপরই এই তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

বুধবার (১১ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার জানান, সেকশন ৩০১ আইনের আওতায় অন্যায্য বাণিজ্যচর্চার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে এই তদন্ত শুরু হয়েছে। এর ফলাফলের ভিত্তিতে চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও মেক্সিকোর মতো দেশের ওপর গ্রীষ্মের মধ্যেই নতুন করে আমদানি শুল্ক আরোপ করা হতে পারে।

তিনি বলেন, তদন্তে যদি কোনো দেশের বিরুদ্ধে অন্যায্য বাণিজ্যনীতি বা চর্চার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে সেই দেশের পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করতে পারবে। গ্রিয়ারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ট্রাম্প যে অস্থায়ী শুল্ক ঘোষণা করেছিলেন, তা জুলাই মাসে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তার আগেই তদন্ত শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এই তদন্তের আওতায় বাংলাদেশ ছাড়াও ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, সুইজারল্যান্ড ও নরওয়ের নাম রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার কানাডাকে এ তালিকায় রাখা হয়নি।

এর আগে কয়েক সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট রায় দেন যে গত বছরের এপ্রিলে বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর ট্রাম্প যে শুল্ক আরোপ করেছিলেন তা আইনসম্মত নয়। আদালতের রায়ের পরপরই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নতুন করে ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন এবং আদালতের ওই সিদ্ধান্তকে ‘ভয়াবহ’ বলে সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে তার শুল্কনীতি বাতিল করা বিচারকদের ‘মূর্খ’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

উচ্চ আদালত রায়ে উল্লেখ করে যে আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন ‘প্রেসিডেন্টকে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না’। আদালতের মতে, জাতীয় জরুরি অবস্থার বিধান ব্যবহার করে ট্রাম্প তার সাংবিধানিক ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন।

সংবিধান অনুযায়ী শুল্ক নির্ধারণের ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস রায়ে বলেন, প্রেসিডেন্টকে শুল্ক আরোপের মতো অসাধারণ ক্ষমতা প্রয়োগ করতে হলে কংগ্রেসের সুস্পষ্ট অনুমোদন থাকতে হবে।

গত বছরের এপ্রিল মাসে ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বের প্রায় সব দেশের পণ্যের ওপর ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয়। পরে বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করে, যেখানে কিছু ক্ষেত্রে শুল্কহার কমানোসহ বিভিন্ন বাণিজ্যসংক্রান্ত শর্ত অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর এসব চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও হোয়াইট হাউজের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুল্কনীতিতে পরিবর্তন এলেও বাণিজ্য চুক্তিগুলো বহাল থাকবে এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলো চুক্তির শর্ত মেনে চলবে বলেই তারা আশা করছেন।

অন্যদিকে আদালতের রায়ের পর ট্রাম্প আবারও ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আরোপ করেন এবং তা ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর হুমকিও দেন। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই তদন্ত কার্যক্রমের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন বাণিজ্য অংশীদার দেশগুলোর ওপর আরও শক্তভাবে শুল্ক আরোপের চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে।

এদিকে চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে প্যারিসে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই বৈঠক আগামী মার্চের শেষ দিকে বেইজিংয়ে ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য বৈঠকের ভিত্তি তৈরি করতে পারে।

ইএইচপি

পাঠকের মতামত:

ডুয়ার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গে থাকতে SUBSCRIBE করুন

সর্বোচ্চ পঠিত